সবুজবাংলা২৪ডটকম, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিয়ের অভিনয়ের মাধ্যমে সৌদি প্রবাসী ইউসুফ আলী (৪৮) নামে এক ব্যক্তির অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জননী হাসিবা আক্তার (৩০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সানারপাড় ইউনিয়নের নয়াআটি-রসুলবাগ এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত হাসিবা আক্তার ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন খানের মেয়ে।
প্রেম থেকে বিয়ের দাবি : ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে হাসিবার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং প্রায় ৭-৮ বছর তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলতে থাকে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৪ সালের ২৬ মে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে দেশে এসে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বালিপাড়া গ্রামের পাশ্ববর্তী পশ্চিম বালিপাড়া এলাকায় হাসিবার দুলাভাইয়ের বাসায় কাজীর মাধ্যমে পুনরায় ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে হাসিবাকে দেন বলে জানান ইউসুফ।
পূর্বের বিয়ে ও পারিবারিক তথ্য : সরেজমিনে জানা যায়, এর আগে হাসিবা আক্তারের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের শাহ আলী ফরাজির ছেলে রুহুল আমিন ফরাজি (৪০)-এর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর পূর্বের স্বামীকে তালাক দেন বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর ইউসুফ আলীকে বিয়ে করেন। তবে কিছুদিন পরই অক্টোবর মাসে তিনি আবার পূর্বের স্বামী রুহুল আমিনের কাছে ফিরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাক্ষীর বক্তব্য- হাসিবার দুলাভাই মাসুম বয়াতি বলেন, “হাসিবা ভাই হিসেবে ইউসুফকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরে তারা আমার বাসায় আসে। ফোনে আগে বিয়ে হয়েছিল বলে জানায়। আমার দেওয়া কাজীর নম্বরে যোগাযোগ করলে কাজী এসে তাদের বিয়ে পড়ান। আমি ওই বিয়ের সাক্ষী ছিলাম।”
পরিবারের ভিন্ন বক্তব্য- হাসিবার ভাই আমিনুল ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ সময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন বালিপাড়া বাজার এলাকায় জড়ো হন।
অন্যদিকে হাসিবার বর্তমান স্বামী রুহুল আমিন বলেন, “আমার স্ত্রীর আত্মীয়রা টাকার লোভে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে আমি তাকে পুনরায় বিয়ে করেছি।”
অভিযুক্ত নারীর বক্তব্য- অভিযোগের বিষয়ে হাসিবা আক্তার বলেন, “বিয়ে করলে কি ডিভোর্স দেওয়া যাবে না? আমার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছি। যা বলার আদালতেই বলবো।” তিনি সাংবাদিকদের নিউজ প্রকাশ করলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ- ইউসুফ আলী জানান, বিয়ের কিছুদিন পর হাসিবা তার কাছে নগদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সময় চাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তার দাবি, বিয়ের অভিনয় করে হাসিবা আক্তার নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া- এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে ইউসুফ আলী হাসিবাকে বৈধ স্ত্রী দাবি করে পুনরায় সংসারে ফেরানোর জন্য উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।