সবুজবাংলা২৪ডটকম, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক তরুণীকে দুই দফা ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী ওই তরুণী বর্তমানে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, গোপালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল উদ্দিন ওরফে রাবন (৪০) এবং উপজেলা ছাত্রদলের স্থগিত কমিটির সভাপতি রোমান আহম্মেদ (৩০)। এ ঘটনায় গোপালপুর সদরের একটি বিউটি পারলারের নারী মালিককেও সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত পারলার মালিকের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে পারলারের ভেতর আটকে রেখে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। সে সময় উপজেলা যুবদল নেতা দুলাল উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তরুণীকে বাধ্য করেন এবং ছাত্রদল নেতা রোমান আহম্মেদ মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ও তরুণীর আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরবর্তীতে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত ১ এপ্রিল রাতে আবারও ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়।
দ্বিতীয় দফা ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও আসামিরা গিয়ে মামলা না করার জন্য ভয়ভীতি দেখান। গত ৩ এপ্রিল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে ১৩ এপ্রিল টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে আদালতের নির্দেশে ১৫ এপ্রিল গোপালপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, মামলা হলেও আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো আসামিদের চাপে তার পরিবারের সদস্যরাও এখন মামলা মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের দাবি, সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কার্যক্রম আগেই স্থগিত করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত দুই নেতা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।