• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

মাধবদীতে ভরা মওসুমেও ঊর্ধ্বমূখী চালের দাম, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

মোঃ আল আমিন :
Update : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : উৎপাদনের ভরা মওসুমে সকল প্রকার শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমলেও আশানুরূপ কমেনি চালের দাম। সব ধরনের চাল কেজি প্রতি বেড়েছে ২/৩ টাকা। চাহিদা বেশি থাকার কারণে অতিরিক্ত দাম বেড়েছে চিনি গুড়া (পোলার চাল) আতপ চালের। ভোক্তা অধিকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
বাংলা সনের পৌষ মাসে কৃষকেরা খেত থেকে নতুন ধান কেটে ঘরে তোলে। উৎপাদনের এই ভরা মওসুমেও চালের দাম এখনো আশানুরূপ কমেনি মাধবদীতে। এদিকে এ মওসুমে সকল প্রকার শাক সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে যতটা স্বস্তি ফিরেছে চালের বাজার নিয়ে তার চেয়ে বেশি অস্বস্তি বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। বর্তমানে খুচরা বাজারে কেজি প্রতি স্বর্ণা চাল ৫০-৫৫ টাকা, ২৮ বালাম সিদ্ধ ৬০-৭০ টাকা, বালাম চিকন ৭৫-৮০ টাকা, ২৮ বালাম আতপ ৬০-৬৫, নাজিরশাইল ৮০-৮৬ টাকা, বাংলা বাসমতি ১০০-১১০ টাকা, কাটারীভোগ ৯০-৯২ টাকা, ইরি আতপ ৪৫-৫০ টাকা, কাটারি আতপ চাল ৯০-১০০ টাকা, কালো জিরা ১২০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনি গুড়া আগে ১১৫ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়।
মাধবদী বাজারের পাইকারী চাল বিক্রেতা ইয়াকুব ট্রেডার্সের মালিক ইয়াকুব বলেন, “ভরা মৌসুমেও চালের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। ২৮ চাল আগে বিক্রি করতাম ২৭’শ ৫০ থেকে ২৮’শ টাকায়, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮’শ ৫০ টাকা থেকে ২৯’শ টাকায়। ইরি আতপ আগে ছিল ২১শ’ টাকা তা বর্তমানে বেড়ে ২২’শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “কৃষকেরা ধান কাটলেও তা এখনো মিলে আসেনি। নতুন ধান আসার আগে থেকেই বাজার অনেকটা উর্ধ্বমুখী।”
মাধবদী বাজারের চাল ব্যবসায়ী ওসমান ট্রেডার্সের মালিক ওসমান গনি বলেন, “বর্তমানে গুটি স্বর্ণা চাল খুচরা কেজি প্রতি চলছে ৫৫ টাকা। যা কিছু দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা করে। তার মতে কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে চালের দাম। ইরি আতপ ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১২’শ ৫০ টাকা যা কেজি প্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২৮ চিকন আতপ ১১৫০-১৩৫০ টাকা যা কেজি প্রতি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। চালের দাম বর্তমানে বাড়তির দিকে। সব চালের দামই কেজি প্রতি বেড়েছে ৩-৫ টাকা। শুধু চিনি গুড়া আতপের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫-২০ টাকা।” তিনি আরো বলেন, “চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়া দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে চিনি আতপের।
মাধবদী বাজারের মাহাবুব ট্রেডাসের মালিক মাহাবুব বলেন, “নতুন চাল বাজারে আসার পরও চালের দাম কমেছে না। যে স্বর্ণা চাল ছিল ৫০-৫১ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৫ টাকায়। চিনি গুড়া আতপের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এ সিজেনে পিকনিক, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তবে ক্রেতারা চালের বাজার নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। ক্ষুব্ধ ক্রেতারা মাধবদী বাজারে চাল কিনতে আসা আনন্দী এলাকার ছালমা টেক্সটাইলের মালিক বাবুল মিয়া বলেন, “বর্তমানে ২৫ কেজি মিনিকেট চাল প্রতি বস্তা ১৮’শ টাকা দরে কিনেছি। এই চাল গত মাসে কিনেছি ১৭’৫০ টাকা দিয়ে। চালের মৌসুমেও বাড়তি দামে চাল কিনতে হয়েছে। চালের দামটা যদি আর একটু কমে তাহলে ভালো হয়। ভরা মওসুমে সব কিছুর দাম কমলেও চালের দাম কমেনি। যদি বস্তায় ৭০-৮০ টাকা কমে, আবার বৃদ্ধি পাওয়ার সময় ১৫০-২০০ টাকা বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো বলেন, “চালের বাজার একেক দোকানে একেক রকম। বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রেতারা।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category