সবুজবাংলা২৪ডটকম, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় তীব্র শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে গত কয়েক দিন ধরে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নিম্নআয়ের মানুষজন।
তীব্র শীতের কারণে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির খাবার জোগাড় করতেও চরম অসুবিধায় পড়েছেন খামারি ও দরিদ্র পরিবারগুলো। উপজেলার পাড়েরহাট, সাইদখালী ও গুচ্ছগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারগুলো তীব্র শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার গরম কাপড়ের দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে ভিড় করছেন পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরাতন গরম কাপড়ের ব্যবসা এখন জমজমাট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, চাদর, ব্লেজার, মাফলার ও মোটা গেঞ্জিসহ নানা ধরনের শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে এসব পোশাক পাওয়া যাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষই এসব দোকানের প্রধান ক্রেতা। এখানে ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট এবং ১০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে সোয়েটার, মোটা গেঞ্জি ও চাদর পাওয়া যাচ্ছে। রিকশাচালক হানিফ বলেন, “শীত অনেক বেড়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো কম্বল পাইনি। বাধ্য হয়ে ফুটপাতের দোকান থেকে ১২০ টাকায় একটি কম্বল কিনেছি।” দিনমজুর শাহাজাহাস বলেন, “১৫০ টাকা দিয়ে একটি জ্যাকেট কিনেছি। রাজনৈতিক নেতাদের কাছে কম্বল চাইতে গেলে তারা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকারিভাবে দ্রুত গরিবদের জন্য কম্বল বিতরণ করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।” এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন “তীব্র শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের প্রকোপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানান, শীতকালে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এসব সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তারা শিশু ও বৃদ্ধদের গরম কাপড় পরানো, ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন”।