সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা নরসিংদীর মাধবদীতে। পৌষ মাসের শুরুতে শৈত প্রবাহ, কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত। গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাধবদীর মানুষ জবুথুবু হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে শৈত প্রবাহ, তীব্র কুয়াশায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সকাল থেকেই মিলছে না সূর্যের দেখা। তবুও ভোর হতেই কিছু কর্মব্যস্ত মানুষ বেরিয়ে পড়েছে কাজের সন্ধানে।
শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাধবদী শহরের বিভিন্ন সড়কে ও হাট-বাজারে ভোর হতেই মানুষের তেমন আনাগোনা নেই। ভোর থেকে মাধবদীর কাঁচা বাজারে সবজি বোঝাই করে বিভিন্ন নসিমন, অটো রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। এইসব নছিমনে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, সিম বহন করতে দেখা যায়। নসিমনের চালকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।
কুয়াশা আর শৈত প্রবাহের কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে দুর্ঘটনা। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলেও সুর্যের ওকিঝুকি চোখে দেখা যায় না। সূর্যের আলো না থাকায় বেড়ে যায় আরো শীত।
অনেক রিক্সা চালকরা বলেন, তীব্র শীতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারছি না। পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে সড়কে তীব্র শীত উপেক্ষা করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সকালে তেমন যাত্রী পাওয়া যায় না। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সড়কে কিছু লোক বের হলেও রিকশায় উঠতে চায় না। তাই তীব্র শীতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি।
নির্মাণ শ্রমিক নাসির মিয়া বলেন, আজ তিন চার দিন হল সুর্যের দেখা মিলছে না। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজে আসতে চায় না শ্রমিকরা। তবুও পারিবারিক আর্থিক অভাব অনটনের কারণে আমাদের কাজ করতে হয়। ইট, বালু, সিমেন্ট নিয়ে আমাদের কাজ থেমে নেই।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে তীব্র শীত উপেক্ষা করে কর্মক্লান্ত মানুষকে কাজে যেতে দেখা যায়। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সমাগম নেই।
এদিকে তীব্র শীত বেড়ে যাওয়ায় লেপ তোসকের দোকানে ভিড় বেড়েছে। মানুষ শীত থেকে বাচতে কম্বল ছেড়ে একটু স্বস্তির আশায় লেপতোষক বানানোর ব্যস্ততার সময় পার করছেন।
শীত বেড়ে যাওয়ায় শহরের ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের কাপড় কিনতে নানা বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত মানুষেরা শীতের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন শহরের ফুটপাতের দোকান গুলোতে।
অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নরসিংদী সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।