সবুজবাংলা২৪ডটকম, খাগড়াছড়ি : পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির ৯’টি উপজেলার প্রায় (৮-১০) হাজার ইটভাটার সাথে সংযুক্ত কর্মচারীবৃন্দ এ বিক্ষোভ সহ অনশন কর্মসূচীতে প্রায় দশ হাজার লোক অংশ গ্রহণ করেছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০’টার সময়, খাগড়াছড়ি শহরের মূলফটক ঈদগাহ’ শাপলা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে – আদালত সড়ক কোট হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মীল সড়ক সহ অবরোধ করে অনশনের প্রস্তুতির সময় জেলা প্রশাসন। আন্দোলন বন্ধ সহ জনদুর্ভোগ ঠেকাতে ব্রিকফিল্ড মালিক ও কর্মচারীর নেতৃবৃন্দদের সবাইকে আন্দোলন না করার অনুরোধ সহ আলোচনা করার আহব্বান জানান। পরে আন্দোলনরত ইটভা শ্রমিকদের নেতৃবৃন্দরা প্রশাসনের আহব্বানের প্রতি সম্মান রেখে, আপাতত জনস্বার্থে ও জনূুর্ভোগ কমাতে আন্দোলন বন্ধ করেন।
খাগড়াছড়ি জেলার ইটভা শ্রমিক ও ট্রাক্টর শ্রমিক এবং ইটভার সাথে জরুরীত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার (বিভিন্ন ঠিকাদার ও উন্নয়ন কাজের সাথে জরীত থাকা লেবার শ্রমিকদের) নেতৃবৃন্দরা বলেন, গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দুর্নীতির ও লোটপাটের একটি অংশ নগদ টাকা নিয়ে গা’ডাকায় রয়েছে। তাৎকালিন সময়ে কাজের বকেয়া টাকা পাচ্ছি না। তার মধ্যে সরকারি উন্নয়ন কাজগুলো ইটভার ইটের জন্য আপাতত বন্ধ থাকায় আমরা কাজ কর্মহীন ব্যাকার। এখন না খেয়ে মরার অবস্থা আমাদের। শুধুমাত্র ইটভার ইটের অভাবে কাজ বন্ধ, তাই আমাদের আজকের দাবী বাচার জন্য ভাত দাও, নয়তো কর্ম করে বাচার জন্য কাজ দেন বলে দাবী জানান তারা।
খাগড়াছড়ি ঠিকাদার সমিতির একজন বলেন, আমরা আমাদের বৈধ লাইসেন্স দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজ পেয়েছি, কাজ করবো ইটের অভাবে কাজ করতে পারছি না। ঐদিকে অফিস থেকে সরকারি উন্নয়ন কাজ যথাসময়ে শেষ করার জন্য নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি ইটভাটার মালিক সমিতির একজন বলেন, সমতল ও পাহাড়ের বিষয়টা আপাতত ভিন্ন বলেই আমরা মনে করি। তবুও সরকারের সিদ্ধান্তের বাহিরে আমরা যেতে পারি না। তবে এ সিজেনে ইটের অভাবে অনেক সরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইটভাটার সাথে সম্প্রেক্ত সকল শ্রমিকদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজকে তাদের সকলের অংশ গ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সহ অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে তারা। দেখা যাক সরকার ও জেলা প্রশাসন কি সিদ্ধান্ত আমাদের দিবে, সেই সিদ্ধান্ত মতোই – আমরা কাজ করবো বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা যায় কিছু দিন আগেও ইটভার মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ইটভা চালুর বিষয়ে প্রেসক্লাবে গিয়েছে, বিভিন্ন টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় নিউজও হয়েছে। কিন্তু আমরা সরকারি কর্মচারী সরকারের সিদ্ধান্ত মতেই আমরা-আমাদের কাজ করবো এবং এর বাহিরে কিছু করার সুযোগ আমাদের নেই বলেও জানানো হয়।