সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীতে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ: নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শহরের মাইজদী নাইস গেস্ট হাউস হলরুমে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এ আয়োজন করে। গোলটেবিল বৈঠকে লেখক-গবেষক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, তরুণ ভোটার এবং সুজনের জেলা, উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৮০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সুজনের নোয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জুর সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমির হোসাইন বুলবুল, নোয়াখালী সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী মুহাম্মদ রফিক উল্লাহ, জেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর আবুল বাশার, সাবেক সোনাপুর কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার, লেখক ফখরুল ইসলাম, ডাক্তার করবি রানী দাস, কবি আখতার জাহান শেলী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, আইন বিভাগের প্রভাষক মাসউদ আহমাদ, অধ্যাপক শিরিন আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, অ্যাডভোকেট আলী আকবর, নারী অধিকারকর্মী নাছিমা মুন্নি, শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা, সাংবাদিক মেজবাহ উল হক মিঠু, মাহবুবুর রহমান, সুমন ভৌমিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আকবর হোসেন সোহাগ, জামাল হোসেন বিষাদ, মানিক ভুঁইয়া ও গিয়াস উদ্দিন রনি প্রমুখ। বক্তারা ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর জনআকাক্সক্ষার আলোকে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলের করণীয় বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
হাতিয়াতে এ মাসেই ফেরি চলাচল শুরু, টেকসই ঘাট প্রত্যাশা স্থানীয়দের
একেএম শাহজাহানঃ নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাত লাখ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে মেইনল্যান্ডের চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা নৌ-রুটে এ মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ফেরি সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। এ জন্য দুই পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে মোট চারটি লো-ওয়াটার ও মিড-ওয়াটার র্যাম্প। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহেই এ সেবা যাত্রা শুরু করবে। হাতিয়া দ্বীপের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এখন পর্যন্ত নির্ভরশীল ছিল সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটের ওপর। প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব নৌযান বন্ধ থাকা, দুর্ঘটনা ও হয়রানিসহ নানা ভোগান্তি ছিল যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিত্যসঙ্গী। নদী ভাঙন রোধ ও ফেরি চালুর দাবিতে স্থানীয় সংগঠন ও সচেতন মহল বহুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের পর অবশেষে প্রকল্প বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ফেরি চালু হলে দ্বীপের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী দিদার মিয়া বলেন, এতোদিন মালবাহী গাড়ি নিয়ে আমাদের দুঃখ–কষ্টের শেষ ছিল না। ফেরি চালু হলে সরাসরি দোকানে মাল ঢোকানো সহজ হবে, বাইরে পাঠানোও তেমন কঠিন হবে না। স্কুল শিক্ষক নিয়াজুর রহমান জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী পরিবহন সহজ হবে, যা দ্বীপবাসীর জন্য বড় সুবিধা। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে ভিত্তি তৈরি, ইট–মাটি–বালু দিয়ে র্যাম্প–রোড নির্মাণ, ল্যান্ডিং স্টেশনের প্রস্তুতিÑসব মিলিয়ে নির্মাণকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ঘাটের পাড় সংরক্ষণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। নদীর ঢেউয়ে জিও ব্যাগ ও জিওটিউবের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার দৃশ্য তাদের উদ্বিগ্ন করছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ, মনির ও জহির বলেন, কাজ যদি টেকসই না হয়, পরে বলা হবেÑএ জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ, এখানে ফেরি রাখা যাবে না। তখন হাতিয়ার মানুষ আবারও অন্ধকারে পড়বে। বিআইডব্লিউটিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রুদ্র চন্দ্র ও সাখাওয়াত হোসেন জানান, নদী শাসন ও তীর সংরক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। র্যাম্পের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ফেরিঘাট উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। নলচিরা ঘাটে লো-ওয়াটার র্যাম্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে এম এন্টারপ্রাইজের মালিক হুমায়ুন কবির বলেন, পাড় সংরক্ষণ ও ব্যাঙ্ক প্রোটেকশনের দায়িত্ব তাদের নয়। নির্মাণাধীন ফেরিঘাটের চারটি র্যাম্পের কাজ পেয়েছে বেলাল ব্রাদার্স ও জে এম এন্টারপ্রাইজসহ চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিআইডব্লিউটিএর চট্টগ্রাম বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস.এম আশ্রাফুজ্জামান জানান, র্যাম্পগুলোর মাঝে বড় জিওটিউব বসানো হচ্ছে, যাতে পাড় সুরক্ষিত থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া স্থানীয়দের সচেতনতা জরুরি, যাতে নৌযান ব্যবহারের সময় ব্যাগগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি আরও জানান, চারটি র্যাম্প ও ল্যান্ডিং স্টেশনের নির্মাণ কাজের ব্যয় ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নোয়াখালী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম রেফাত জামিল বলেন, হাতিয়ার নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষে ব্লকসহ একটি বড় প্রকল্পের ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই নির্মাণ হলে হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সহজ হবে এবং দ্বীপবাসী সুফল ভোগ করবে।