সবুজবাংলা২৪ডটকম, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচীতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সারাদিন পরিস্থিতি সাধারণত স্বাভাবিক ছিল। সহিংসতা এড়াতে গতকাল রাত থেকেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব টহল দেয়। জেলা কারাগারেও বাড়ানো হয় নিরাপত্তা।
আওয়ামী লীগ ঘোষিত শাটডাউন কর্মসূচি বানচাল করতে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তারাও সারাদিন মাঠে ছিল।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই খোলা ছিল। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর নির্ধারিত সকল পরীক্ষা বন্ধ ছিল। দোকানপাটও খোলা থাকলেও অন্য দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। গোপালগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। শহর জুড়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও থ্রি হুইলার চলাচল করলেও যাত্রী ছিল না বললেই চলে। এতে সব থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাস মালিক সমিতির একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে গোপালগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস ছাড়বে কিনা সেটা সন্ধার পরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আজ সকালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার তিলছড়া বাজার এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে।
একইভাবে সকালে সদর উপজেলার ডুমদিয়া এলাকাতেও ছাত্র লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু খানের নেতৃত্বে কয়েকজন মহাসড়কে যানবাহন আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেখানেও তারা বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি।
বিকেলে রায় ঘোষণার পরে একই স্থানে আবারো আগুন জ্বেলে ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। ঘটনাগুলোর ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকা খুলনা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এছাড়াও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় রায় ঘোষণার পর পরই টুঙ্গিপাড়া ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। উক্ত বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে তারা।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘কয়েকজন লোক রাস্তায় উঠে অবরোধের চেষ্টা করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যায় তারা।
সামগ্রিক বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে চাইলে গণমাধ্যমের সাথে এখনই কথা বলতে রাজি হননি গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।