• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দরের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কোটি টাকার গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল ও আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের শিপমেন্ট পুড়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
স্টাফ রিপোর্টার
ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধু তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়নি, গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য চালানও পুড়ে গেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালামাল ধ্বংসের প্রভাব মাঠ পর্যায়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে পড়বে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পের প্রচুর পরিমাণ কাঁচামাল আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, এসব কাঁচামাল দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জীবন রক্ষাকারী ওষুধসহ ক্যান্সারের ওষুধ তৈরি করত।
গঠনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বলছেন, আগুন নেভানোর কাজে গাফিলতি ছিল। শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভেতরে যেতে পারেনি। ২০–২৫ মিনিট ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে কালক্ষেপণ হয়েছে, এর মধ্যে আগুন পুরো কার্গো ভিলেজে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও কার্গো ভিলেজের ভবনে এখনও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের ২২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এখনও কাজ করছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ দেখতে উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্তরা, উৎসুক জনতা এবং বিভিন্ন সংস্থার লোকজন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন, উত্তরায় গার্মেন্টস প্রোডাক্ট ইনপুট করা প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট অ্যান্ড সেফের মালিক মো. বেনজির বলেন, “হংকং ও চায়না থেকে আমার দুটি শিপমেন্ট এসেছিল, রেডিমেড গার্মেন্টসের। এগুলো সব পুড়ে গেছে। স্যাম্পল প্রোডাক্টও ছিল। আমরা ছোট ব্যবসায়ী, লাখ পাঁচেক টাকার মালামাল পুড়লেও এটি আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। আজ মালামালগুলো খালাস করার কথা ছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—গতকাল আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ২০–২৫ মিনিট সময় ধরে ফায়ার সার্ভিস বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। গাড়িগুলো দাঁড়িয়ে ছিল, গেটও বন্ধ ছিল। তারা কেন প্রবেশ করতে পারেনি, তা এখনও জানা যায়নি।
ঘটনার সময়কার বর্ণনা দিয়ে কার্গো ভিলেজের ‘কিউইপি-এক্সপ্রেস’ নামের আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী মো. সাইদ হোসেন বলেন, “দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে কার্গো ভিলেজের আমদানি কারগো কমপ্লেক্সের কেমিক্যাল গোডাউনে প্রথম আগুন দেখতে পাই। কিছুক্ষণ পরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি গাড়ি আসে, কিন্তু ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে পারছিল না। গাড়িগুলো ১৫–২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল। শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে মালামাল খালাস বন্ধ থাকে। ভিতরে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল, গার্মেন্টস পণ্য ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল ছিল, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে ৪৫টি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস তাদের অপারেশন চালায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালামাল আসে। এখন মনে হচ্ছে, সব পুড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার। এটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, স্বাস্থ্য খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধের কাঁচামাল আগুনে পুড়ে গেছে।”
প্রায় ১ লাখ ডলারের ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত এম/এস এজ জি এস কোম্পানি নামের সিএনএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দেশের নামিদামি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল আনে, খালাস ও সরবরাহের কাজ করে।
প্রতিষ্ঠানটির কাস্টম কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “চায়না, ভারত ও জার্মানি থেকে আসা ওষুধ শিল্পের ২০টি শিপমেন্ট এখানে ছিল। এসব মালামাল খালাস করে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর গোডাউনে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এখন যেসব তথ্য পেয়েছি, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ২০টি শিপমেন্টে প্রায় ৪–৫ হাজার কেজি কাঁচামাল ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলার। এসব কাঁচামাল দিয়ে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হতো।”
তিনি আরও বলেন, “যেমন দেশে ওষুধ তৈরি হয়, তার কাঁচামাল এখন ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। মাল খালাস না করতে পারায় এবং আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আমাদের কোম্পানিরও বিশাল ক্ষতি হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো মালামাল নিয়ে আসে, তাদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন গার্মেন্টস কাঁচামাল রপ্তানিকারকরা। দেশের গার্মেন্টস শিল্পের বড় পরিসর থাকার কারণে এসব কাঁচামাল বিমানবন্দর দিয়ে আসে। তাই পোশাক কারখানার কাঁচামাল সবচেয়ে বেশি পুড়েছে।
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পিটি গ্রুপের এজিএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের দশটি শিপমেন্ট কার্গো ভিলেজে ছিল। এগুলোতে বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার জন্য ফেব্রিক্স, সুতা, ডাইং মেশিনের স্পেয়ার পার্টস এবং প্রায় ১৫০টি স্যাম্পল কুরিয়ার ছিল। মোট চার–পাঁচ টন কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের বর্তমান বাজার মূল্য ৯–১০ কোটি টাকা।”
তিনি আরও বলেন, “সব শিপমেন্টে ইন্সুরেন্স করা আছে। আমরা ক্ষতিপূরণের জন্য ক্লেইম করব। তবে যেসব কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে, এর প্রভাব গার্মেন্টস শিল্পে দীর্ঘদিন থাকবে। কাঁচামাল ছাড়া প্রোডাক্ট তৈরি সম্ভব নয়। মাল খালাস না হওয়ায় ক্ষতি বাড়ছে।”
কার্গো ভিলেজে লাগা আগুন দেশের গার্মেন্টস ও ওষুধ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, লাখ লাখ টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে—এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।
এর আগে শনিবার দুপুর সোয়া ২টায় কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। একই সঙ্গে কাজ করেন নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, দুই প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ-আনসার সদস্যরা।
সূত্র বলছে, কার্গো ভিলেজ মূলত পোস্ট অফিস ও হ্যাঙ্গারের মাঝামাঝি এলাকায়, আট নম্বর গেটের পাশে। আগুন লেগেছে আমদানির কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে। এখানে রাখা প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category