সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছে। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি সংলাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংলাপ চলাকালীন সময় পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে দুই পক্ষ।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সরকারি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে, আর শনিবার আফগান প্রতিনিধি দল সেখানে যোগ দেবেন।
তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাবাহিনীর সূত্রে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা আজ দোহায় রওনা হবেন।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই কাবুল ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্তমানে সম্পর্ক প্রায় বন্ধুত্বহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।
দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার প্রধান কারণ তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পাকিস্তান বহু বছর আগে গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে টিটিপির তৎপরতা আরও বেড়েছে।
গোষ্ঠীটির মূল ঘাঁটি পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া, যা আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল। এই এলাকাতেই প্রায় নিয়মিত টিটিপি ও পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।
পাকিস্তান বারবার অভিযোগ করেছে, আফগান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৯ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কাবুলে বিমান হামলা চালায়। এতে টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ ও তার সহযোগী ক্বারি সাইফুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
দুই দিন পর ১১ অক্টোবর সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলোর ওপর হামলা চালায় আফগান বাহিনী। পরবর্তী তিন দিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলে। পাকিস্তানের সেনা সদর দপ্তরের তথ্যমতে, এতে আফগান বাহিনীর প্রায় ২০০ সদস্য ও পাকিস্তানের ২৩ জন সেনা নিহত হন।
১৪ অক্টোবর সংঘাত থামাতে ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই দেশ, যার মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার দুপুরে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার কিছু ঘণ্টা পরই পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
রাতের মধ্যেই উভয় দেশ আবারও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়। এই মেয়াদ কতদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, তা দোহায় অনুষ্ঠিত শান্তি সংলাপের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : জিও নিউজ