সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে লায়ন্স ক্লাব নোয়াখালী মাইজদী-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালীর মাইজদী নতুন জেল রোডে অবস্থিত মাইজদী মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-লায়ন্স ক্লাব নোয়াখালী মাইজদীর সভাপতি এডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল, সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ এডভোকেট ইমাম হোসেন স্বপন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার, লায়ন্স ক্লাবের সদস্য নুরুল হুদা দিদার, শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ মামুন, শিক্ষক মারজান আক্তার, নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আকবর হোসেন সোহাগসহ প্রমুখ।
নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকা হেনস্তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালীতে উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিয়াদ মাহমুদ কর্তৃক এক নারী শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগে ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এদিকে প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে স্কুলে ফেরাতে চাইলেও তারা তার সামনে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে। আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে, প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ নিয়মিত স্কুলের শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের জোর পূর্বক কোচিং ক্লাস চাপিয়ে দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। স্কুলের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ প্রায় সময়ই ছাত্রীদের গালিগালাজ করেন এবং শিক্ষিকাদের অপমান অপদস্থ করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, গত রবিবার দুপুর দুইটায় প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর তেড়ে এসে আক্রমণাত্মক ভাষায় নাজেহাল করে এবং শিক্ষিকার এমপিও ক্যান্সেল করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার হুমকি দেয়। তিনি বলেন, ‘আমার সাথে অশোভন আচরণের কারণে আমার স্বামী স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার সাথেও বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশ এনে জেলে ভরার হুমকি দেন। এছাড়া শিক্ষক নাজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, মাহমুদ রিয়াদের ব্যক্তিগত রোষানলের কারণে, আমার ও কয়েকজন শিক্ষিকার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আটকে রেখেছেন। দরখাস্ত নিয়ে আট মাস পিছে পিছে ঘুরতে হচ্ছে। এদিকে প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদের বিরুদ্ধে আবুল হাশেম নামে চাকুরিচ্যুত এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মাহমুদ রিয়াদের ২৬ জুন ২০১২ সালে চাকরিতে যোগদান করেই ২৩ জুলাই ২০১২ তারিখে কোচিং বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কুরুচিপূর্ণ ব্যবহারের অজুহাতের আমাকে নোটিশ করে। এরপর শিক্ষক আবুল হাশেমকে প্রধান শিক্ষক বহিরাগতদের সাথে হাত করে ছয়টি মামলায় জড়িয়ে চাকরিচ্যুত করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন ও এখন পর্যন্ত তার বকেয়া বেতন আদায় হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ জানান, তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার স্বার্থে তিনি শিক্ষকদের কোন নির্দেশনা দিলে তারা নিয়ম মানে না ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও নোয়াখালী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।