• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গাছে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

একেএম শাহজাহান :
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার আন্ডারচরে এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার সকালে ২৩ আগস্ট ওই যুবকের বাড়ির পাশে একটি পেয়ারা গাছে তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় পরিবার। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলছেন, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে দাবি করেছেন, নিহত মাহফুজ ছাত্রলীগের সভাপতি। তবে মাহফুজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে দাবি করছেন তাঁর বন্ধু ও ছাত্রদল নেতারা। এদিকে, নিহত মাহফুজের মা হাজরা বেগম ছেলের স্মৃতি মনে করে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। দরিদ্র কৃষক ছায়েদুল হকের পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে অভাবের এই সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে মাহফুজকে হারিয়ে নির্বাক পলকে তাকিয়ে আছেন হাজরা বেগম। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী সদর উপজেলার ২০ নং আন্ডারচর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড কাজিরচর এলাকায় গত শনিবার সকালে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। নিহত যুবকের পরিবার অভিযোগ করে দাবি করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ভোরে স্বজনরা প্রথমে লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পরপরই শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, নিহত যুবক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, মাহফুজ ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতেন। ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাপুত্র জয় গুজব ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলার পাঁয়তারা করছেন। নিহত মাহফুজের পিতা ছায়েদুল হক জানান, তাঁর ছেলের মোবাইলে টিকটকে অশ্লীল মেসেজ পাঠাতো প্রবাসী স্ত্রী। তাঁর মেয়েরা বিষয়টি টের পেলে তাঁকে জানালে তিনি শুক্রবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রবাসী সোহাগের মাকে বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের ছেলের বউ আর আমার অবিবাহিত ছেলে। এসব অশ্লীল মেসেজ আর যেন না দেয়। ছেলেকে আমি সতর্ক করবো, বউকে আপনারা সতর্ক করেন।” পরে বিকেলে ৪টায় পাশের বাড়িতে সোহাগের মা, বউ, বোন জামাই গিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসে। তারা বলে, পরের দিন তাঁর ছেলে মাহফুজের লাশ পাঠাবে। তিন মাস পর তাদের ছেলে এসে তাদের পরিবারের সবাইকে “সাফ” করবে। মাহফুজের পিতা আরও জানান, “আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। সাড়ে সাতটায় বাড়িতে গিয়ে ছেলে খেয়ে বাজারে যায়। বাড়িতে ফেরে রাত ১২টা-১টায়। সেদিন আর রাতে বাড়ি ফেরেনি। পরে আমি ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজছিলাম। পরে ভাতিজা এসে বলতেছে, ‘কাকা, মাহফুজকে নাকি ঘরের পাশে পেয়ারা গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।’ আমি গিয়ে দেখি, মহিলাদের মেক্সির কাপড় দিয়ে পেয়ারা গাছের ডালের সাথে ঝুলিয়ে খাঁড়া করে রাখা হয়েছে। তাঁর মা ধরতেই ছেলে বুকে পড়ে গেছে। এটা আত্মহত্যা না, আমার ছেলেকে হুমকি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “পরে থানা থেকে পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদিন আসে। আমি তো অশিক্ষিত মানুষ। তারা লিখে নিয়েছে, পরে আমার হাত থেকে টিপসই নিয়েছে। পরে পোস্টমর্টেমের জন্য মাইজদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে এসআই আবার এসে প্রবাসী সোহাগের বাড়িতে দুই ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে মোবাইল চেক করছে। পরে তারা টিকটক ও মেসেজগুলো ডিলিট করছে। আমার ছেলের মোবাইল পুলিশ নিয়ে গেছে। আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।” মাহফুজের বোন মুর্শিদা বেগম জানান, পাশের বাড়ির এক প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে টিকটককে কেন্দ্র করে শুক্রবার তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। তারা বলে, “তোর ভাইয়ের লাশ পাবি।” পরে শনিবার সকালে তারা মাহফুজকে হত্যা করে পেয়ারা গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান মাহফুজের পরিবার। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি দাবি করা রাজনৈতিক পরিচয়কে ভুয়া বলে দাবি করেছেন নিহতের সহকর্মীরা। মাহফুজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে জানান আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। তাঁরা বলেন, মাহফুজ তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর পুরো পরিবার তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন না তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চান। সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছাত্রলীগ দাবি করা ভুয়া বলেও জানান তিনি। তবে যাঁদের বিষয়ে অভিযোগ, সে প্রবাসে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর মা নুরজাহান বেগম জানান, মাহফুজ অনেক ভালো ছেলে ছিল। তাঁদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। টিকটক নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল কিনা তিনি জানেন না। সে আত্মহত্যা না হত্যার শিকার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও চান তাঁরা। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন জানান, ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিলে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, “তাদের কথা শুনলে হবে নাকি? তারা বলতেছে মেরে ফেলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া কিছু বলা যাবে না।” তবে থানায় হত্যা মামলা না নেওয়ায় নিহত মাহফুজের পিতা কোর্টে মামলা করেছেন বলে জানান মাহফুজের পিতা। মাহফুজ এ ঘটনা আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, এখনো প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের একটাই দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় যেন প্রকৃত সত্য ঘটনা আড়ালে থেকে না যায়।

চাঁদাবাজির দায়মুক্তি পেতে দলীয় প্যাড ব্যবহার করে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ লিপি, ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতৃবৃন্দ
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চরএলাহী ঘাট দখল করে চাঁদাবাজির দায় থেকে মুক্তি পেতে নিয়ম লঙ্ঘন করে নোয়াখালী জেলা বিএনপির প্যাডে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ লিপি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুরুল আলম সিকদার নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) নুরুল আলম সিকদারের স্বাক্ষর করা প্রতিবাদ লিপি দু’টি নিজের ফেসবুকে দেওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। প্রকাশিত প্রতিবাদ লিপিতে দেখা যায়, নোয়াখালী জেলা বিএনপির প্যাডে একাধিক গণমাধ্যমে নিজ স্বাক্ষরিত চাঁদাবাজির সংবাদের প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন নুরুল আলম সিকদার। এতে তিনি নিজেকে বিএনপির তৃণমূলের নেতা হিসেবে তাকে নির্দোষও দাবি করেন। এরআগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরএলাহী ঘাট প্রকাশ চরলেংটা ঘাট দখল করে নিজস্ব বাহিনী দিয়ে দখলবাজি-চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘাটের দখল ও আধিপত্য নিয়ে উপজেলায় বিএনপির ও যুবদলের দুই নেতা খুন এবং অন্তত ১০জন নেতাকর্মী আহত হওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। সংগঠিত রক্তক্ষয়ী এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ক্ষমতার অপব্যাবহার করে ও দলীয় শৃংখলা লঙ্ঘন করে দলীয় প্যাড ব্যাবহার করার কারণে রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক মহলসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে নুরুল আলম সিকদারের বিরুদ্ধে। পরে তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক থেকে একাধিক সংবাদপত্রে দলীয় প্যাডে প্রেরিত প্রতিবাদ লিপি সরিয়ে নেন। এ পরই দলীয় প্যাড ব্যাবহার করা ভুল হয়েছে মর্মে দুঃখ প্রকাশ করে আরেকটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। নুরুল আলম সিকদার তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে আমি প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে ছিলাম। সেখানে আমার দলীয় প্যাড ব্যবহার করা সঠিক হয়নি। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি জেলা বিএনপির নিকট আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ নিয়ম লংঘন করে জেলা বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার করে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ লিপি প্রেরণের বিষয়ে জানতে চাইলে, নুরুল আলম সিকদার বলেন, আমি দলীয় প্যাড ব্যবহার করেছি এটা সত্য। এটা আমি পারি কি পারি না সেটা দল দেখবে। এ নিয়ে কিছু হলে আমার দলের নেতারা আমাকে বলবে। কিন্তু এটা তো সাংবাদিকদের আমাকে প্রশ্ন করার বিষয় নয়। নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, জেলা বিএনপি এ ধরণের কোনো বিবৃতি দেয়নি। আর এ প্যাড জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করার অধিকার রাখে না। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে অবহিত করবো। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, দলীয় প্যাড এভাবে ব্যবহার করার নিয়ম নেই। বিষয়টি এখনো আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া কেউ জেলা বিএনপির প্যাড ব্যবহার করতে পারেন না। নুরুল আলম সিকদার চরম অন্যায় করেছেন। এ বিষয়ে আমরা দলীয় ফোরামে যখাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। একই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, আপনাদের কাছ থেকে জানলাম। তবে নোয়াখালী জেলা বিএনপির প্যাড শুধুমাত্র জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই ব্যবহার করতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category