• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয় যেন দুর্নীতির আখড়া

কাজি আরিফ হাসান :
Update : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, টঙ্গী (ঢাকা) : ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত গাজীপুর জেলায় টঙ্গী সোনালী আর্কেড টঙ্গী বাজারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়,আর এখানে সপ্তাহে ৫ দিন চলে জমি,বাড়ির সংক্রান্ত কার্যক্রম। এখানের সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামালের ছিলেন মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল। গত ১৬ জুলাই গাজীপুর জেলার টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ আবু হেনা মোস্তফা কামাল অবসরে যান এরপর অস্থায়ী হিসেব কাযাক্রম করেন মোঃ হাফিজুর রহমান। সরেজমিনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এখানে সেবা পেতে হলে গ্রাহকদের দিতে হয় সরকার নির্ধারিত (মৌজা/অঞ্চল ভিত্তিক ফি) ফিসহ মোটা অংকের টাকা (ঘুষ) যার কোনো রশিদও দেন না তারা। এদিকে সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে সিসি ক্যামেরা থাকলেও এ ঘুষ বানিজ্য করে সিসি ক্যামেরা আড়ালে।তবে এই জমি বা বাড়ি রেজিষ্ট্রেশ ঘুষ বানিজ্য সাব-রেজিস্ট্রারের যোগসাজশেই হয় এবং এই ঘুষের একটা অংশ সাব রেজিস্ট্রারাও পেয়ে থাকে বলে জানা গেছে। তথ্য নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর জেলার টঙ্গী আশপাশ বিভিন্ন অঞ্চলের জমি ও বাড়ির মালিকরা (জমি/বাড়ি ক্রেতা-বিক্রেতা/ উত্তরসূরীরা) সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে আসে তাদের জমি বা বাড়ি মালিকানাধীন/নাম পরিবর্তন (নামজারি/ মিউটেশন) বা রেজিষ্ট্রি করতে। উল্লেখ্য যে এই জেলা টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আছে এক জন সাব-রেজিস্ট্রার,একজন সহকারী,২ জন স্থায়ী মোহরার,একজন টি.সি. মোহরার, একজন অফিস সহায়ক এবং নকল নবিশ প্রয়োজন মত থাকে (সিটিজেন চার্টার)। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এখানে রেজিস্ট্রি জন্য অঞ্চল ভিত্তিক জমির কাঠা প্রতি অথবা বাড়ি/ফ্ল্যাট স্কয়ার ফিট হিসেবে সরকারি ফী নির্ধারণ করা থাকলেও তা আবার এই ফী দিতে হয় ব্যাংক পে-অর্ডারের মাধ্যেমে,অথচো এখানে লাইসেন্সধারী দলিল লেখকরা সরকারি নির্ধারিত ফি পেঅর্ডারের মাধ্যমে তো গ্রহণ করছেন সেই সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন গ্রাহকদের কাছ থেকে,তবে জমির দলিলের রশিদ দিলেও তারা টাকার রশিদও দেয় না গ্রহকদের, শুধু তাই নয় এরা অনেক সময় গ্রাহকদের নিকট থেকে পে-অর্ডার না নিয়ে সরাসরি নির্ধারিত ফীসহ অতিরিক্ত ফী নিলেও সরকারি কোষাগারে সরকারি নির্ধারিত ফী জমা দিলেও ভুক্তভোগীদের দেয়া অতিরিক্ত টাকা জমা হয় না। এ বিষয়ে উক্ত ভবনের কয়েক জন দলিল লেখকের কাছে গণমাধ্যম কর্মী জমি ও ভুমি (নামজির) সংক্রান্ত বিষেয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান,এখন নামজারি,খাজনা-খারিজ সব বর্তমান অনলাইনে হয়ে গেছে,”আমাদের হাতে কিছু নাই”, তারা আরো বলেন,যে কোনো ফ্ল্যাট/জমির মালিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে খাজনা-খারিজ দিতে পারবেন, তবে জমি/বাড়ি/ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রি করতে হলে জমির মালিকগনদের স-শরীরে টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে হাজির হতে হবে। এ বিষয়ে কয়েকজন সেবা গ্রহীতাদের কাছে এই ভবনে জমির খাজনা-খারিজ সম্পর্কে জনতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে জনান, “আমরা যতই অনলাইনের মাধ্যমে খাজন-খারিজের টাকা জমা দেই না কেনো তারপরও এই অফিসে আসতেই হবে,আর অনলাইন নিজেরা কাজ করলেও সার্ভার ডাউন বা সার্ভার সমস্যা দেখা যায়,যার কারনে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেরা নিজেদের জমি বা ভুমি সংক্রান্ত কাজ করতে পারিনা সঠিক ভাবে তাই তাদের কাছে আসতে হয়,কিছু করার নাই,আমরা এই ভুমি রেজিষ্ট্রি অফিসে দালালদের কাছে জিম্মি”। আরও তথ্য নিয়ে জানা যায়, এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরকে উক্ত টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের কর্মরতরা-কর্মচারীর হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন উক্ত সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কর্মকর্তারা বা তাদেরই লোক দিয়ে। এছাড়া গোপনে তথ্য নিয়ে জানা গেছে,তাদের এ দুর্নীতির বিষয়ে টঙ্গী এলাকায় কিছু মুখোশধারী সাংবাদিক আছে তাদেরকে মেইনটেইন করেন সাব-রেজিষ্ট্রারের পিয়ন হান্নান ও অন্য নামে দুই ব্যক্তি। তথ্য নিয়ে জানা গেছে এই হান্নান সব সময় সাব-রেজিষ্ট্রারের রুমের দরজার কাছে বসে থাকেন এবং কোন ব্যক্তি জমির দলিল সংক্রান্ত সাব-রেজিষ্ট্রার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি সাব-রেজিষ্ট্রারের অনুমতি নিয়ে তাকে রেজিষ্ট্রারের রুমে প্রবেশ করতে হয় অথচ সংবাদমাধ্যম তথ্যের জন্য সাব- রেজিষ্ট্রারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে এই হান্নান অমানবিক আচরণ করেন। গত ১৭/১৮ আগস্ট এই টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে গেলে সাব রেজিষ্ট্রারের দরজার সামনে বসে থাকা হান্নান সংবাদকর্মীকে বলেন,স্যারের সঙ্গে দেখা করা যাবে না যদি দেখা করতে হয় আগামিকাল সকাল ১০ টায় আসবেন, তারা আরও বলেন এই সাব রেজিস্ট্রার স্যার ভারপ্রাপ্ত, আগের সাব-রেজিষ্ট্রারের কাজ পার্টটাইম করছেন। এদিকে সাব রেজিস্ট্রার বেলা ১২ টার সময় তার এজলাসে ওঠেন এবং ২ টা পর্যন্ত দলিলের স্বাক্ষর করেন এবং জমির/বাড়ি মালিকদের উপস্থিততে দলিলের মালিকদের দলিল বুঝিয়ে দেন এর পরে তিনি তার রুমে গেলেও তার সঙ্গে সাংবাদকর্মী সাক্ষাৎ করতে বাধা দেয় এই রুমের সামনে থাকা হান্নান। এদিকে সাব- রেজিষ্ট্রারের নীরব দুর্নীতির বিষয়ে আশপাশের অনেকেই বলেন,কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সনামধন্য প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীর অনুসন্ধানে গেলে হয় তারা নড়েচড়ে বসেন অথবা মোটা অংকের টাকা(ঘুষ) দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন,এ ঘটনার অনুসন্ধানে টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল লেখক সমিতির অনেকে এমন নিরব দুর্নীতিতে জড়িত,এই ভবনের চতুর্থ তলার দলিল লেখক স্ট্যাম্প ভেন্ডর সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তারাই ম্যানেজ করেন অনেক গণমাধ্যমকর্মীদের। এ বিষয়ে টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রার ভবনের ৪র্থ তলার সাব-রেজিস্টারে সঙ্গে গত ১৭/১৮ আগস্ট গণমাধ্যম কর্মী দেখা করতে চাইলে সেখানের তারা এতোটাই ব্যস্ত যে দেখা করার সময় নেই তাদের। পরবর্তিতে আবারও তৃতীয় তলায় সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে সেখানে সাব রেজিস্ট্রারে সহযোগী হান্নান বলেন স্যার খুবই ব্যস্ত দেখছেন না?শুধুই তাই নয় অনেক সময় জমির মালিকদের যদি তার জমির পরিমানের বেশি খারিজ করলে এই দাগের অন্য জমির মালিক খারিজের সংক্রান্ত কারনে মিস কেস করতে হয় আর সেটার রায়ের জন্য সাব রেজিস্ট্রার সাহেবের ব্যস্ততা দেখা যায় তবে তার কর্ম শেষ করে তার কক্ষে বসলেও তিনি কারোর সঙ্গে তার কক্ষে সাক্ষাৎ করেন না। অথচো এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্পর্কে তিনি সব অবগত এবং এ দুর্নীতির এক অংশ এই সব অঞ্চলে সাবরেজিস্টারও পেয়ে থাকেন। ভুক্তভোগীরা জানান,আমরা আমাদের জমি অথবা বাড়ি সংক্রান্ত কাজে টঙ্গী এই রেজিষ্ট্রি অফিসে আসি। আমরাও চাই সরকারের বেধে দেয়া নির্ধারিত ফি দিয়ে আমাদের সম্পদ রেজিষ্ট্রি করতে চাই কিন্ত এখনে তো সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় তাহলে কেনো আমরা এই অতিরিক্ত ফী দেবো? আর অতিরিক্ত টাকা না দিয়েও কিবা করবো তারা কাজই করে না,দলিল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যে সরে না! সে কারনে আমরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ফী দিয়ে আমাদের সম্পদের রেজিষ্ট্রেশন করাই। শুধু তাই নয় বিগত সরকারের সময়ও যেভাবে জমি বা ফ্ল্যাট সংক্রান্ত কোনো কাজের জন্য এ ভবনে আসলে ঘুষ দিতে হতো তেমনি একই ভাবে আওয়ামী সরকার চলে যাওয়ার পরও এমনই চিত্র থাকে তাহলে দুর্নীতি রোধ হলো কোথায় বরং নিরবেই এরা ঘুষ বানিজ্য আরও বেড়েই চলছে। ভুক্তভোগীর আরো জানান,বিগত সরকার আমলে যারা এই টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রারের কার্যালয়ে ঘুষ বানিজ্য করতো তারা তো আছেনই তবে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেন বিএনপির ব্যানরে কিছু নেতারা যা তথ্য নিয়ে জানা গেছে। এছাড়া এই ভবনে কর্মরত ব্যক্তিরা ছাড়াও অনেক বহিরাগতে আনাগোনা দেখা যায়,যারা দলিল লেখকদের এই ঘুষ বানিজ্য করতে সহযোগিতা করে থাকে। সেবা গ্রহীতারা জানান,সরকারি নিয়ম অনুসারে মুল দলিল পেতে সময় লাগে ৬/৮ মাস তবে এক সপ্তাহের মধ্য দলিলের নকল উঠানো যায়,যা দিয়ে জমির মালিকগণ তাদের প্রয়োজনে কাজ করতে পারেন,অথচ এই ভবনের বহিরাগতরা গ্রহীতাদের নিকট থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে মুল দলিল বের করে দেন,আর কেউ ঘুষ দিতে রাজি না হলে তাদের দলিল নিয়ে টালবাহানা করে থাকেন তারা। এ ধরনে নিরব ঘুষ বানিজ্য বন্ধের জন্য কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আশা এবং সেই সঙ্গে যারা এভাবে ঘুষ বানিজ্য করছেন এই টঙ্গী সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই উর্ধতন কর্মকর্তা দৃষ্টি আশা করে ভুক্তভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category