• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার মৌচাকে দুই মরদেহ উদ্ধার: নোয়াখালীতে চলছে শোকের মাতম

একেএম শাহজাহান :
Update : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন-রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোমাতলি দৌলতার বাড়ির মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. মিজান এবং খিলপাড়া ইউনিয়নের লটপটিয়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. জাকির। এদিকে, নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তাদের স্বজনরা এই মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেন রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোবারক উল্লাহ। তিনি জানান, মিজান তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার কোনো শত্রু নেই। প্রায় ১০ বছর আগে সে মাটি ও বালুর ব্যবসা করতো। অবিবাহিত ছিল। তার দুলাভাই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় ৩০টি ডাব নিয়ে প্রাইভেটকারে করে দেখতে গিয়েছিল। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। জাকির ও মিজান বন্ধু বলে জানান প্রাইভেটকারটির মালিক জোবায়ের আল মাহমুদ সৌরভ। জোবায়ের জানান, তিনি তার স্ত্রীর বড় ভাইকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে শনিবার রাতে ঢাকা যান। এ সময় গাড়িতে জাকিরের সঙ্গে তার বন্ধু মিজানও উঠেন। স্ত্রীর বড় ভাইকে বিমানবন্দরে নামিয়ে দেওয়ার পর রোববার ভোরে বিমানবন্দর থেকে তারা গাড়ি নিয়ে মালিবাগ এলাকায় পৌঁছান। এরপর জাকির তাকে মালিবাগ থেকে নোয়াখালীগামী একটি বাসে তুলে দেন। জোবায়ের আল মাহমুদ বলেন, বিদায় দেওয়ার সময় জাকির বলেছেন, বেলা ১১টার দিকে রোগীকে ছাড়পত্র দেবে, ততক্ষণ তারা দুজন গাড়িতেই ঘুমাবেন। আমি পৌনে ১১টার দিকে জাকিরকে ফোন দিয়েও পাইনি। পরে রাত আটটা পর্যন্ত আরও কয়েকবার ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেছি, তিনি আর ফোন ধরেননি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাড়িটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করে। গেটে নিরাপত্তাকর্মীদের জিজ্ঞাসায় বলা হয়, গাড়িতে রোগী আছে। তবে দুই দিনেও গাড়িটি না বের হওয়ায় সোমবার নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ির কাছে গিয়ে ভেতরে দুইজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম জানান, নিহতদের একজন জাকির, যিনি গাড়ির চালক ছিলেন। তিনি ড্রাইভারের সিটে মৃত অবস্থায় ছিলেন, আরেকজন মিজান তার পাশে ছিলেন। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং এক স্বজনকে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যার আশঙ্কা খুব কম, তবে আমরা কোনো কিছু উড়িয়ে দিচ্ছি না। সঠিক কারণ জানতে বিশেষজ্ঞ মতামতের অপেক্ষা করছি। ডিসি মাসুদ আলম জানান, বেজমেন্টে সাফোকেশন ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মরদেহে পচন ধরেছে। গাড়িটি টয়োটা ফিল্ডার-এক্স মডেলের, মালিক জোবায়ের আহমেদ সৌরভ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। চাটখিল থানার ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ আহমেদ চৌধুরী জানান, নিহত দুইজনের বাড়ি চাটখিল উপজেলায়। গাড়ির মালিক সৌরভের বাড়িও চাটখিল। আমরা তথ্যসহ সব বিবরণ রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে, তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নদীর মাঝ পথে স্পিড বোট বিকল, পরে যাত্রীদের উদ্ধার
একেএম শাহজাহান ঃ হাতিয়া নলচিরা ঘাট থেকে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া ‘সমুদ্র বিলাস’ নামের একটি স্পিড বোট বিকল হয়ে আধাঘণ্টা মেঘনায় ভাসতে থাকে। এসময় ঢেউয়ের মধ্যে কয়েক ধাপে বোটটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে যাত্রীদের আতঙ্ক চিৎকার শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে অন্য একটি বোট গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে নেন। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার সময় মেঘনা নদীর মাঝে স্পিডবোট বিকল হওয়ার এ ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন পুরাতন ‘সমুদ্র বিলাস’ স্পিডবোট’টি দুই শিশু ও চালক হেলপারসহ মোট ১৭জন যাত্রী নিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া নলচিরা ঘাট থেকে ছেড়ে যায়। মাঝ পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আধাঘণ্টা পর‌্যন্ত যাত্রীদের নিয়ে ভাসতে থাকে বোটটি। এসময় উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে কয়েক ধাপে বোটটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হলে যাত্রীদের আতঙ্ক চিৎকার শুরু হয়। যাত্রীদের কেউ কেউ ঘটনার চিত্র মোবাইলে ধারণের চেষ্টা করলে চালক সাদ্দাম হোসেন ও তার হেলপার যাত্রীদের উপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে অন্য একটি বোট গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে যান। স্পিডবোটের যাত্রী ও হাতিয়ার সংবাদকর্মী শামীমুজ্জামান জানান, পুরাতন এ স্পিডবোটে যাত্রী সর্বোচ্চ সাতজন ধরবে। অথচ সে জায়গায় গাদাগাদি করে দুইজন শিশুসহ ১৫জন যাত্রী তুলেছে তারা। সেই সাথে চালক ও হেলপার। এবিষয়ে, হাতিয়া উপজেলা নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা জানান, চালক সাদ্দামকে ডেকে আনা হয়েছে। এখন ইউএনও আসতেছেন। বোটটির ধারণক্ষমতা ও সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category