সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পরিবারের আয়ের সিংহভাগই খাদ্য কেনায় ব্যয় হয়। এই প্রেক্ষাপটে গত ১২ আগস্ট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় অনুষদ একটি গবেষণা সেমিনারের আয়োজন করে, যেখানে রমজান মাসে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষদের অ্যাসোসিয়েট ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে ‘শ্রিংকফ্লেশন’ বাপণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দাম বাড়ানোর প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন, যা গরিব পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
ব্যবসায় অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে গবেষক দল তাদের প্রতিবেদনে দেখান যে টাকার অবমূল্যায়ন, বৈশ্বিক খাদ্যমূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন খাদ্যমূল্য বাড়ার প্রধান কাঠামোগত কারণ। অন্যদিকে রমজানের আগে ভোক্তাদের আতঙ্কিত কেনাকাটা, মজুতদারি এবং কৃত্রিমসংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিতকরে। গবেষক দল রমজানে রতিন থেকে চারমাস আগেই খাদ্যপণ্য আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। এছাড়া তারা মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা, বন্দরব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর জোর দেন। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য খোলাবাজারে ভর্তুকি মূল্যে চাল, গম ও ডালবিক্রির পরিমাণ বাড়ানো, শহরের বস্তি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা এবং মজুতদারি রোধে কঠোর নজরদারির প্রস্তাব করা হয়। পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের মূল্য ১৫% বৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্কহ্রাসের ব্যবস্থা চালুর কথাওবলা হয়।