সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীতে স্থানীয় দৈনিক সফল বার্তার সম্পাদক লিয়াকত আলী খানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে সাংবাদিকরা। রবিবার সকালে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে নোয়াখালীতে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগণ এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন সমাবেশে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলমগীর ইউসূফের সভাপতিত্বে ও সাপ্তাহিক চলতি ধারা পত্রিকার সম্পাদক এম.বি আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ পারভেজ, যমুনা টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি মুনতাসিম বিল্লাহ সবুজ, প্রথম আলোর নোয়াখালী প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান সহ আরো অনেকে। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি মানিক ভূঁইয়া, নিউজ ২৪ এর নোয়াখালী প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, নাগরিক টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোহেল, জাগো নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন মজনু, আমার দেশ পত্রিকার নোয়াখালী প্রতিনিধি আজাদ ভূঁইয়া, আমার সংবাদের নোয়াখালী প্রতিনিধি ইমাম উদ্দিন আজাদ, চ্যানেল ২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার সুমন ভৌমিক। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন বিশাদ, জিটিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি বিকাশ সরকার, এটিএন নিউজের নোয়াখালী প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, মাইটিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি ইউনুস শিকদার, বাংলা ভিশনের ডিজিটাল প্রতিনিধি কামরুল কানন, মানব জমিনের কবিরহাট উপজেলা প্রতিনিধি জহিরুল হক জহির, ইনকিলাবের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আনোয়ার তোহা, হাতিয়া কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এম দিলদার উদ্দিন, সাংবাদিক মোজ্জামেল হোসেন কামাল, নয়া সকাল সম্পাদক জুয়েল রানা লিটন, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস নোয়াখালী প্রতিনিধি মাহমুদ ফয়সাল সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ নোয়াখালী জেলা শহরের সমবায় ব্যাংক লিমিটেড মার্কেটের সালামির মাধ্যমে মালিকানা গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে মার্কেটের দোকানগুলো দখল করার চেষ্টা করছে জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলসহ একটি চক্র। এই নিয়ে মার্কেটের দোকান মালিকরা ফুঁসে ওঠেছে। ওই জোরপূর্ব দখল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে মার্কেটের নিচ তলায় অবস্থিত দৈনিক সফল বার্তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় আবদুল মোতালেব আপেল ও তাঁর সহযোগীরা। এই নিয়ে গত ০১ জানুয়ারী, ০৪ জানুয়ারী ও ২০ জানুয়ারী দখলবাজ আবদুল মোতালেব আপেলের বিরুদ্ধে দৈনিক সফল বার্তা পত্রিকায় সিরিজ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর জের ধরে বিএনপি নেতা আবদুল মোতালেব আপেল গত ১৩ মে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নোয়াখালীর সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সফল বার্তা পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক লিয়াকত আলী খানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বক্তারা সাংবাদিক লিয়াকত আলী খানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেন। একই সঙ্গে দৈনিক সফল বার্তা পত্রিকার কার্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে দেশব্যাপী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাংবাদিক নির্যাতন ও বন্ধের দাবি তোলেন সাংবাদিকরা।
নোয়াখালীতে তিন ঘণ্টায় ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালীতে তিন ঘণ্টায় ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে জেলা শহর মাইজদীর সবগুলো সড়ক ডুবে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির এই তথ্য দেন জেলা আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, টানা তিন ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে ১৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ পর্যন্ত বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। সরেজমিনে দেখা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড ও জেলার প্রধান সড়কের আশপাশের এলাকা, হাসপাতাল সড়ক, মাইজদী বাজার, লক্ষীনারায়ণপুর, ফকিরপুর, হাউজিং, কৃষ্ণরামপুর, হরিনারায়ণপুর, উত্তর সোনাপুরসহ বেশিরভাগ সড়কেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় নোয়াখালী জেলাশহর মাইজদীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পরও প্রশাসনের উদ্যোগে দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধার না করা, অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়মতো খাল ও ড্রেন সংস্কারের অভাবে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।মো. আবদুর রহিম নামের হরিনারায়ণপুরের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গত সপ্তাহে পৌরসভার খালের কিছু অংশে ময়লা আবর্জনা তুলে তা খাল পাড়েই রেখে যাওয়ার পর ঝড়ো বৃষ্টিতে তা আবার খালের পানিতেই মিশেছে। এতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার বিষয়ে নোয়াখালী পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, পৌর প্রশাসকসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাব। তাই জরুরি ভিত্তিতে কী করা যায় সেই চেষ্টা করছি।