• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সংস্কার ও খুনিদের বিচার ছাড়া বাংলাদেশের মানুষ কোনো নির্বাচন মেনে নিবে না : লালমনিরহাটে ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিনিধি :
Update : শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, লালমনিরহাট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকারকে অবশ্যই দুটি কাজ নিশ্চিত করতে হবে। একটি হচ্ছে খুনিদের বিচার, আর এ বিচার অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। আরেকটি হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংস্কার। এ দুটি ছাড়া বাংলাদেশের জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নিবে না।
শনিবার সকালে কালেক্টরেট মাঠে লালমনিরহাট জেলা জামায়াত আয়োজিত জেলা আমীর আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি এড. ফিরোজ হায়দার লাভলুর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এড. ফিরোজ হায়দার লাভলু, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জনাব আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জনাব হারুনুর রশিদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর এড. আবদুল বাতেন, সাবেক জেলা আমীর সহ-অধ্যাপক আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলা সভাপতি হাফেজ আজহারুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের লালমনিরহাট জেলার আহবায়ক নূরনবী সরকার, হেফাযত আন্দোলনের লালমনিরহাট জেলার আহবায়ক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, খেলাফত মজলিসের লালমনিরহাট জেলা সভাপতি মুফতি আবুল কাশেম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মুহাম্মাদ হামিদুর রহমান, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি পুষ্পাজিদ বর্মা প্রমুখ।
তিনি আরও বলেন, যারা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করে রাখার জন্য একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল, মানুষের জীবন যাদের কাছে কোনো জীবনই ছিল না, তারা ক্ষমতার একেবারে শেষপ্রান্তে এসে সরাসরি স্পষ্ট দিবালোকে মানুষের বুকে গুলি ছুড়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। সাড়ে ১৫ বছর তারা এভাবে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে জেলে বন্দি করে রেখেছে, অসংখ্য মানুষকে তারা গুম করে আয়নাঘরে বন্দি করে রেখেছে এবং খুন করেছে। শুধু গত অভ্যুত্থানেই তারা দেড় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে জীবনের তরে পঙ্গু করে দিয়েছে। অনেকেই প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে।
এমতাবস্থায় নির্বাচনের আগে সরকারকে অবশ্যই দুটি কাজ নিশ্চিত করতে হবে। একটি হচ্ছে খুনিদের বিচার, আর এ বিচার অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। আরেকটি হচ্ছে প্রয়োজনীয় সংস্কার। এ দুটি ছাড়া বাংলাদেশের জনগণ কোনো নির্বাচন মেনে নিবে না। প্রধান উপদেষ্টা বারবার ঘোষণা দিয়েছেন এবারের ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যে ইলেকশন হবে। আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বিনয়ের সাথে বলব- আমরা ইলেকশন চাই, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমরা চুরি-ডাকাতি আর কালো টাকার প্রভাবযুক্ত নির্বাচন দেখতে চাই না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবশ্যই সমতল মাঠ তৈরি করতে হবে। আমরা সরকারকে এই দায়িত্ব পালনে সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা এও বিশ্বাস করি সংস্কার এবং খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।
তিনি লালমনিরহাটবাসীকে এই জনসভায় যোগ দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় তাদেরকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের সকল আহ্বান ও বক্তব্য আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে পৌঁছে দিন। মা বোনদের বলবেন, আগামীর বাংলাদেশ যখন কুরআনের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে, তখন নারীদের মায়ের মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করা হবে। বোনদের বলবেন, তাদের জন্য এই সমাজ সম্মান ও মর্যাদার হবে। মেয়েদের বলবেন, তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বলবেন, ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে শান্তি ও সম্মানের সাথে সকল সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে ভাগ করে নিব। কাউকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। বিপদে এবং সুখে আমরা পরস্পরের সঙ্গি হবো, পাশে থাকব। আমরা পরস্পরের ভালবাসা নিয়ে মিলেমিশে থাকতে চাই। এভাবেই আমরা বৈষম্যমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত আগামীর মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। জাতি গঠনমূলক এই লড়াই-সংগ্রামে আমরা সারাদেশের মত লালমনিরহাটবাসীকে সাথে চাই, বুকে চাই, আপনাদের অন্তরে একটু ঠাঁই চাই।
তিনি আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর যাবৎ আমরা কথা বলতে পারিনি। জনগণের বাঁচার অধিকার ছিল না। মানুষের কর্মসংস্থানের অধিকার এবং ইজ্জত-আব্রু কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশকে একটি জীবন্ত কারাগারে পরিণত করা হয়েছিল। তারা গুম করে, খুন করে, হামলা করে, জুলুম-নির্যাতন করে, আয়নাঘর বানিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে এভাবে মানুষকে দাবিয়ে রাখা যায় না। তারা বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। সাড়ে ১৫ বছরের আন্দোলন, ত্যাগ এবং কুরবানী এবং আমাদের সন্তানদের নেতৃত্বে তারা শুধু গতি ছাড়তেই বাধ্য হয়নি, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। যারা দেশপ্রেমিক, যারা দেশকে ভালবাসে, তারা কখনই দেশ ছেড়ে পালায় না, বিদেশে বেগম পাড়া বানায় না। দেশের কষ্টার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের বুকে তাক করে না। তারা চেয়েছিল ফিরাউনের মত এ দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে। বিপরীতে তাদেরকে ফিরাউনের চাইতেও নির্লজ্জভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। তাদের এমন রাজনীতি বড় লজ্জার!। আওয়ামী লীগের দোসররা এখন বুঝতে পারছে জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কেউ পার পায় না। এ সরকার ক্ষমতায় এসে ১৮ কোটি মানুষের উপর তা-ব চালিয়েছিল। তারা প্রথমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করেছে, পরে জামায়াতে ইসলামীর ওপর অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এবং শেষও করেছিল জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে। তারা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। সবশেষে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু তারাই জনগণ কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি সমাবেশে আগত জনগণের কাছে জানতে চান, আপনারাই বলেন, কারা নিষিদ্ধ হয়েছে? সমস্বরে জবাব আসে আওয়ামী লীগই নিষিদ্ধ হয়েছে। জালিম সরকারের দোসররা দুপুরের খাবারের টেবিল থেকে বাপ-বেটাকে ধরে নিয়ে বলেছিল, এরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল। এমন হাজারো ঘটনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজমের মাত্রা চরমভাবে অতিক্রম করেছিল।
সম্মানিত ভাইয়েরা ফ্যাসিস্টদের পতন হয়েছে ঠিকই, ফ্যাসিজম এখনোও বিদায় নেয়নি। আমরা ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিজমেরও পতন চাই। রাজনৈতিক কর্মী নামের যারা কলঙ্ক, তাদের হাতে এখনো দেশের মানুষ নির্যাতিত হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে, শহরে-বন্দরে, ফুটপাতে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে, শিল্পকারাখানায়, পরিবহন সেক্টরে, টেম্পু ও বাসস্ট্যান্ড-এ ভয়াবহ চাঁদাবাজের তান্ডবে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে; তারা ইতোমধ্যেই এইসব চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আমরা তাদেরকে অভিনন্দন জানাই। আমরা দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, এইসব চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category