সবুজবাংলা২৪ডটকম, (পিরোজপুর) : পিরোজপুররের মঠবাড়িয়ায় সৌদি প্রবাসি দুই পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলার সাগর দাশ ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দুই প্রবাসির পিতা উপজেলার বাদুরতলী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. সামসুল হক হাওলাদার মঙ্গলবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় একটি জিডি করেছেন।
এদিকে দক্ষিণ ভান্ডারিয়া গ্রামের শুকরঞ্জন দাশের ছেলে সাগর দাশ ও তার দলবলের হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় সামসুল হক হাওলাদারের পুত্রবধূঁ প্রবাসি রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোসাঃ মনি বুধবার (১২ মার্চ) সকালে মঠবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে মোসাঃ মনি বলেন, তার স্বামী রফিকুল ইসলাম ও দেবর জহিরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দালাল এর ভুলের কারনে সৌদি মালিক কর্তৃপক্ষ তার স্বামীকে কোন আকামা বা বৈধ কাগজ-পত্র দেয় নাই। যে কারনে সে পালিয়ে-পালিয়ে সৌদিতে বসে কাজ-কর্ম করছেন। গত ৮-৯ মাস আগে দক্ষিণ ভান্ডারিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল দাশ ও অধির দাশ নামে দুই ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। বাবুল দাশ তার শ্রমিকদের দেখাশুনা করার জন্য আমার স্বামীকে বাংলাদেশী মূল্যের ৯৬ হাজার টাকা বেতনে চুক্তি করে চাকরি দেন। ইতো মধ্যে বাবুল দাশের কাছে আমার স্বামী ৬ মাসের বেতন বকেয়া পরে যায়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারী আমার স্বামী পুলিশের হাতে আটক হয়। আমার স্বামী বাসায় না গেলে আমার দেবর জহিরুল তাকে সন্ধান করতে যায়। পরে সে জানাতে পারে আমার স্বামী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। এর ৩ দিন পরে দেবর জহিরুল ইসলাম বাবুল দাশের কাছে গিয়ে আমার স্বামীর ৬ মাসের পাওনা বেতনের টাকা চাইতে গেলে, আমার স্বামী তাদের মোটা অংকের টাকা নিয়ে গেছে বলে প্রচার শুরু করেন। অপর দিকে বাবুল দাশ ও তার ছোট ভাই অধির দাশ সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছে যে, আমার স্বামী ও দেবর টাকা নিয়ে গেছে। এ মিথ্যা ঘটনা ব্যপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রচার করে বিষাদাগার করে তোলার পাশাপশি সামাজিক ভাবে আমাদের গোটা পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করে আসছেন। বাবুল দাশ ও অধির দাশের ভাতিজা সাগর দাশ প্রায় সময়ই দল-বল নিয়ে আমার বাড়ি ও আমার বিভিন্ন স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শণ করে আসছেন।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জিডির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।