সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ১১ বছর পর জামায়াতে ইসলামীর এক ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের তিন কর্মীর কবর থেকে তাঁদের দেহাবশেষ তোলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কবরস্থান থেকে ওই তিন দেহাবশেষ উত্তোলন করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম এ তথ্য জানিয়েছেন। ওসি জানান, চরহাজারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার নতুন বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে তাঁর ছেলে আব্দুল আজিজ ওরফে রায়হান (১৮), রামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করিম উল্লাহ মাঝি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে নুর ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও চরকাঁকড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের কমর উদ্দিন বেপারী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে আবুল কালামের ছেলে সাইফুল বাবলুর (২০) দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। এর মধ্যে বামনী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সাইফুল ও বসুরহাট দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী রায়হান শিবির কর্মী ছিলেন এবং বাবলু পেশায় রং মিস্ত্রি ও জামায়াত কর্মী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই মিছিলটি পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে জামায়াত-শিবিরের সাত কর্মী নিহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাকি চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়। তখন এ ঘটনায় মামলা করা হয়নি। গত ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামে নিহত জামায়াত কর্মীর বড় ভাই মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নোয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ইকবাল হোসেনের আদালতে হত্যা মামলার জন্য আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে বাদীর অভিযোগটি কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুজ্জামান, কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক উপ পরিদর্শক সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া, আবুল কালাম আজাদ, শিশির কুমার বিশ্বাস ও উক্যসিংসহ ১১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় বিচারক ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করা চার জামায়ত-শিবির কর্মীর দেহাবশেষ তুলে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ন হাজী বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে শিবিরকর্মী মতিউর রহমান সজীবের (১৭) দেহাবশেষ তোলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার তিনজনের দেহাবশেষ তোলা হয়। পরে দেহাবশেষগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দেহাবশেষ তোলার সময় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এসআই মঈনুল হোসেন, বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন ও নিহতদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসাইন বলেন, নিহতের স্বজনেরা ১১ বছর পর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে মামলা করতে পেরেছেন।
চুরি করতে দেখে ফেলায় নোয়াখালীতে নারীকে কুপিয়ে হত্যা : পুলিশ
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালী সদর উপজেলায় চুরি করতে দেখে ফেলায় এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সুধারাম থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, নিহত তাসলিমা বেগম রোজির ভাই আহসান উল্যাহ জসিম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে সুধারাম মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে সদরের বিনোদপুর ইউনিয়নের জালিয়াল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মামলার একমাত্র আসামি জালিয়াল গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. তারেককে (৩৫) দুপুরে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত রোজি জালিয়াল গ্রামের ওবায়দুল হকের স্ত্রী। তার ছেলে জিয়াউল হক ইনু নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। জালিয়াল গ্রামে বাপের বাড়িতে এক ঘরে থাকতেন তিনি। স্বজনরা জানিয়েছেন, রোজির ঘরে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটে। ওসি কামরুল বলেন, “সোমবার রাতে বিনোদপুর ইউনিয়নের জালিয়াল গ্রামে তাসলিমা বেগম রোজির ঘরে চুরি করতে ঢোকে একই গ্রামের তারেক। এ সময় রোজি দেখে ফেলায়, একা ঘরে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে চলে যায় তারেক। শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোজিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। “খবর পেয়ে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।” এ পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, “এ ঘটনায় তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় রোজিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে সে। অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজিও হয়েছে।” নিহতের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।