• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালী সুবর্ণচরে ছেলের অপরাধী বানিয়ে মাকে লাঠিপেটা করলেন ইউপি সদস্য

একেএম শাহজাহান :
Update : রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৪

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলায় সালিশ বৈঠকে এক নারীকে আইউব আলী নামে এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) লাঠিপেটার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই নারীর স্বামীর দাবি, ‘তিনি বিএনপি করায় তার স্ত্রীকে এমন নির্যাতন করেছেন আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্য।’ আইউব আলী সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওই ওয়ার্ডের শামসুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী ক্ষমতার দাপটে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমিদখলসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী ওই নারী সাত সন্তানের মা। তার স্বামী কৃষিকাজ করে ও নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ওই নারীর স্বামী বলেন, ঘটনাটি আট মাস আগের। এর সত্যতা যাচাই করে বিচার করার জন্য দাবি করছি। আমি চরজব্বর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। আওয়ামী লীগের মেম্বার আইউব আলী আমাকে ৮-৯টি মামলায় জড়িয়েছেন। ঘরে লুটপাট চালিয়েছেন। তাতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে আমার নিরপরাধ ছেলেকে চোর সব্যস্ত করে স্ত্রীকে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে। এতোদিন কথা বলতে পারিনি, এখন আমি এর বিচার চাই। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে আশপাশে মানুষ জড়ো হয়ে আছে। মাঝখানে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছেলের অপরাধে মায়ের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। একপর্যায়ে ওই নারীকে সবার সামনে উপর্যুপরি লাঠিপেটা করতে থাকেন ইউপি সদস্য আইউব আলী। এ সময় উপস্থিত অনেকে একজন নারীকে এভাবে না মারার অনুরোধ করলেও কথা শোনেননি ইউপি সদস্য। আবার অনেকেই ওই নারীকে দায়ী করে গালাগালি করতে থাকেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আইউব আলী ভিডিওর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি আট মাস আগের। অভিযুক্ত পরিবারটি আমার আত্মীয় হয়। সমাজ রক্ষার স্বার্থে অপরাধী ছেলেকে আশ্রয় দেওয়ায় তার মাকে শাসন করেছি। জনপ্রতিনিধি হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন কেন জানতে চাইলে দুইবারের এ ইউপি সদস্য বলেন, তখন বুঝতে পারিনি। আসলে বিষয়টি এভাবে করা আমার উচিত হয়নি। এখন বুঝতে পারছি এটা খুব অন্যায় হয়ে গেছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী আটক
নোয়াখালীর সদর উপজেলার ৪নং কাদির হানিফ ইউনিয়ন থেকে মুর্শিদা বেগম (৫২) নামে এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাৎক্ষণিক এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশ। আটক স্বামী মো. বাচ্চু মিয়া (৬৫) উপজেলার ৪নং কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের নিত্যনন্দনপুর গ্রামের ছমি হাজী বাড়ির মৃত আলাম মিয়ার ছেলে। রবিবার (০৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার নিত্যনন্দনপুর গ্রামের ছমি হাজীর বাড়ি থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শনিবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি। তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি, পারিবারিককলহের জের ধরেই স্ত্রী মুর্শিদা বেগমকে জবাই করে হত্যা করে স্বামী বাচ্চু মিয়া। খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। একই সাথে অভিযুক্ত স্বামীকেও আটক করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাচ্চু মিয়া ও তার স্ত্রী মুর্শিদা বেগম একসাথে বসবাস করতেন। তাদের ৪ ছেলে রয়েছে, তবে ছেলেরা কেউ বাড়িতে থাকেনা। সকালে আমেনা বেগম নামের এক প্রতিবেশী মুর্শিদার গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মুর্শিদার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার দিবাগত রাতের যেকোন সময়ে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করে বাচ্চু মিয়া। পুলিশ বাচ্চু মিয়াকে আটক করে। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে এলামেলো কথাবার্তা বলায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সারারাত আলামত গোপনের চেষ্টা করেছিল। ওসি মীর জাহেদুল হক রনি আরও জানান, মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category