সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রী পরিষদের সদস্য এমনকি সংসদ সদস্যরা জুলাই বিপ্লবের কারণে নির্বাচিত হয়েছেন। এক দলকে বিদায় করে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসাতে জুলাই বিপ্লব হয়নি। জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এজন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাও বিএনপি সময় থাকতে সহজে মেনে নেয়নি। অনেক রক্তের বিনিময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে বিএনপি সরকারকে বাধ্য করা হয়েছে। আজও বিএনপি সময় থাকতে সহজে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে বাধ্য করা হবে। রাজপথের আন্দোলন সরকারের জন্য সুফল আনে না। তিনি বলেন আমাদেরকে জেল-জুলুম, অত্যাচারের ভয় দেখাবেন না। এসব পার করে আমরা আজ এখানে এসেছি। যদি দেশ ভালো চালাতে চান তবে সময় থাকতে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু আপনারা জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশ গুলোর মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেই অধ্যাদেশ গুলো বিএনপি সরকারের খুব পছন্দ। কিন্তু যেই অধ্যাদেশ গুলো জনগণের কাছে সরকারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করে সেই অধ্যাদেশ গুলো বিএনপির খবুই অপছন্দ। এজন্য বিএনপি বাছাই করে সেই অধ্যাদেশ গুলো বাতিল করার পথে হাঁটছে। বিএনপির রাজনীতি একদিকে সুবিধাবাদী আরেকদিকে মুনাফেকি। তারা মুখে এক কথা বলে, কাজে আরেকটা করে। নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর গণভোটের রায় তারা মেনে নিচ্ছে না। ৭০ শতাংশ জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না। তিনি ২৮ অক্টোবরের কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপির ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে ২৮ অক্টোবর। আবারও যদি বিএনপির ভুলের খেসারত দিতে হয় তবে দেশবাসী বিএনপিকে আর ক্ষমা করবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য বৈধ হলেও জনগণের ভোটে গণভোট জয়যুক্ত হওয়ার পর বিএনপি গণভোটকে বলে অবৈধ। বিএনপি নির্বাচনের আগে গণভোটের বিপক্ষে কথা না বললেও সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিএনপির হওয়ায় তারা জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য অবশ্যই সংবিধান লাগবে। কিন্তু সেই সংবিধান মুজিববাদের সংবিধান নয়, শেখ হাসিনার সংবিধান নয় বা বিএনপির মনগড়া সংবিধান নয়। সংবিধান হতে হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। গণভোট মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে দলীয়করণ বন্ধ হবে, একনায়কতন্ত্র বন্ধ হবে, সংসদে উচ্চ কক্ষ গঠন হবে এজন্যই বিএনপি গণভোট মানে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একই তফসিলে ২টি নির্বাচন হয়েছে। একটি সংসদ নির্বাচন অপরটি গণভোট। নির্বাচনের পর কমিশন শপথ গ্রহনের জন্য সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রত্যেক সদস্যকে দুটি শপথ ফরম দিয়েছে। বিএনপি শুধুমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে। তারা গণভোটের রায় মেনে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কখনো জনপ্রতিনিধি হতে পারে না। তারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন করা সংসদের রুটিন কাজ। রুটিন কাজের জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি, গণভোট হয়নি। জুলাই বিপ্লব এবং গণভোট হয়েছে সংস্কারের জন্য। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুবা জনগণ আবারও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। জনগণ রাজপথে নেমে আসলে পালানোর জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে না।