সবুজবাংলা২৪ডটকম, পিরোজপুর : পিরোজপুরে এক কিশোরীকে অপহরণসহ ধর্ষণের দায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনাল পিরোজপুর এর বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।
দন্ডিতরা হলো জেলার নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাই মহল গ্রামের বেলায়েত শেখের পুত্র মিলন শেখ, একই উপজেলার শেখমাটিয়া গ্রামের সাহেব গাজীর ছেলে মারুফ গাজী এবং পিরোজপুর সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক গ্রামের মৃত আকতার গাজীর ছেলে অলি গাজী।
মামলার প্রধান আসামি মিলন সেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারফ গাজী কিশোরী ভিকটিমকে অপহরণের দায়ে প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়।
ভিকটিম পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সনাতন ধর্মী ১৩ বছরের কিশোরী।
মামলা সূত্রে জানা গেছে ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ ভিকটিম নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে দন্ডিত অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা তাকে খুলনায় মিলন শেখের কাছে পৌঁছে দিলে মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে মুসলিম বানিয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে জোর পূর্বক ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে তার বাড়িতে বাবাকে ফোন দেয়। তার বাবা পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং বাদী হয় পিরোজপুর সদর থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অপহরণসহ ধষর্ণের মামলা দায়ের করেন। সাক্ষ্য প্রমানে আদালত আজ ওই রায় দেন।
মামলার বাদী মনোজ সিংহ বলেন, আসামীরা উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে। এ রায়ে তিনি খুশি। তিনি আশা করেন উচ্চ আদালতের যেনো এ রায় বহাল থাকে।
পাবলিক প্রসিকিউট (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সরদার শাজাহান সরদার জানান কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে আদালত যে শাস্তির রায় দিয়েছে তাতে তিনি সন্তুষ্ট।
পিরোজপুরে প্রতিপক্ষ সুব্রত গংদের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা ও হয়রানীর অভিযোগ
পিরোজপুর প্রতিনিধি : জেলার স্বরূপকাঠিতে একটি পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টায় প্রতিপক্ষ সুব্রত গং প্রতিবেশী একটি পরিবারের সদস্যদের মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ভাবে হয়রানী করছেন। স্বরূপকাঠি পৌর এলাকার আচার্য্যপাড়া (১নং ওয়ার্ডের) বাসিন্দা এ ঘটনায় ভুক্তভূগী দুলাল আচার্য্য এ অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে দৈনিক পিরোজপুরের কথা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন বিগত ৯ জানুয়ারি/১৯৯৫ ইং তারিখে স্বরূপকাঠি মৌজার জে,এল নং-১৪ এর বি,এস ১৮০ নং খতিয়ানের ১০ শতাংশ সম্পত্তি রেনু বালার কাছ থেকে ক্রয় করেন। সেই থেকে তিনি বসতবাড়ি নিমার্ণ করে সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ সুব্রত আচার্য্য, দুলাল আচার্য্যকে তাঁর বাড়ি থেকে উৎখাতের জন্য বেছে নেয় ভিন্নপথ। সে ঐ বাড়ির দক্ষিন পাশের ভড়াট হওয়া সরকারি খালের উপরের রাস্তার জায়গায় বে-আইনী ভাবে দখল করার জন্য দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করে। সেই লক্ষে হয়ারানী করতে দুলাল ও তার পুত্র দিবাকর আচার্য্যের বিরুদ্ধে ১৪৪/৪৫ ধারায় পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন প্রতিপক্ষ সুব্রত। মামলায় হেরে যাওয়ার পর সুব্রত ফের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৬০/২৩ নং মামলা দায়ের করেন। এবারও হেরে যান সুব্রত। এদিকে সুব্রত’র নেতৃত্বে লোকজন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে খুন জখমের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার ঘটনায় ভুক্তভূগী দুলাল বাদী হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ঐ মামলায় (৫৬৯/২২) সুব্রতসহ অপর ৪ জন বিবাদী আদালতে লিখিত মুচলেকা দেয়। জনসাধারণের তৈরী করা রাস্তা ও খাল দখল করার চেষ্টা করলে, ঐ ঘটনায় মোঃ খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (এমপি কেস নং- ৩২১/২০২৫) করলে, সেই রায়ও সুব্রত’র বিপক্ষে যায়। এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে একটি মামলা (সিভিল রিভিশন নং ৪৩২৮/২০২৫) উচ্চাদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে দিবাকর আচার্য্য বলেন, প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলা ও হয়রানীর কারণে আমাদের দুই ভাইয়ের শিক্ষা জীবন কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে দুলাল আচার্য্যরে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া পুত্র দিবাকর আচার্য্য, পিরোজপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবুল হালদার উপস্থিত ছিলেন।
এ সম্পর্কে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে, সুব্রত আচার্য্য বলেন, অভিযোগ সত্য নয়, ভিত্তিহীন। একই সাথে তিনি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার আহবান জানান।