• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কয়রা বাজারের স্বর্ণের দোকানে দুর্ধরর্ষ চুরি

নিজস্ব প্রতিনিধি :
Update : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, কয়রা (খুলনা) : কয়রা বাজারে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সদরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নুপুর জুয়েলার্স’-এর দেয়াল কেটে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুটে নিয়েছে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। যা বর্তমানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দোকান খুলতে গিয়ে চুরির বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। ঐ দোকানের মালিক প্রভাত কুমার ভদ্র জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে তিনি দোকান খুলতে যান। দোকানের দরজা (সাটার) খোলার পরই দেখতে পান দোকানের উত্তর-পূর্ব কোণের ছাদ সংলগ্ন দেয়ালটি ভাঙা। দোকানের ভেতরের শোকেস ও আলমারিগুলো ছিল তছনছ করা।ভুক্তভোগী মালিকের ভাষ্যমতে:”সকালে এসে দেখি দেয়াল ভাঙা আর ভেতরটা লণ্ডভণ্ড। মুহূর্তেই বুঝতে পারি সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ধারণা করছি, গভীর রাতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেয়াল ছিদ্র করে ভেতরে ঢুকেছে চোরেরা। এতে করে আনুমানিক ৪ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার মালামাল ও টাকা খোয়া গেছে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মোঃ শাহ আলম বলেন, সংবাদটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


কয়রায় সুন্দরবন দিবস পালন দিবসটিকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি
কয়র (খুলনা) প্রতিনিধি : ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হলেও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলের মানুষরা দিনটিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ হিসেবে পালন করেন। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনাসহ উপকূলীয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুই দশক ধরে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষায় নাগরিকজোট-সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশন বলছে, ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়। সুন্দরবন সমুদ্র ও উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বন। জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্যের জন্য ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আর ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকো সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হওয়ায় সুন্দরবন এখন দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এক ভ্রমণকেন্দ্র। বন বিভাগ বলছে, বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে অনুপম অদ্বিতীয় সুন্দরবন গড়ে ওঠেছে অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে। বৈজ্ঞানিক, নৃতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিবেচনায় সুন্দরবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বনের মোট আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগই হচ্ছে জলাভূমি। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অধিকতর সমৃদ্ধ। এই বনে সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, হরিণ, কুমির, কিং কোবারা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন, ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্য সম্পদ। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাস্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জনপদ এখানো টিকে আছে শুধু সুন্দরবনের আশ্রয়ে। দেশের সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় গড়ে উঠেছে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি-জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। এ বনের অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দেয়। তবে সুন্দরবন এখন অস্তিত্ব সংকটে। কিছু মানুষের লোভ-লালসা আর অপকর্মের শিকার হচ্ছে বননির্ভরশীল মানুষ ও গোটা বনের জীববৈচিত্র্য। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী , একসময় এ বনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি। যা কমতে কমতে এখন ২৭০ প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে সাগর-নদীর পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা। কমে যাচ্ছে সুন্দরবনের কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রও। একশ্রেণির জেলে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের মৎস্যভাণ্ডার। একইভাবে হত্যা করা হচ্ছে বাঘ, হরিণ, শূকরসহ অন্যান্য প্রাণী। সমুদ্রে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিকদুর্যোগ ছাড়াও পূর্ণিমা ও আমাবস্যার জোয়ারে বনের অনেক উঁচু এলাকা তলিয়ে পানিতে নষ্ট হচ্ছে বন্যপ্রাণীর ডিম। এতে ব্যাহত হচ্ছে বণ্যপ্রাণীর বংশবিস্তার। উজান থেকে মিঠা পানির প্রবাহ না থাকায় মিঠা পানির স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে বনে।
মঙ্গলবার (২৪ফেব্রুয়ারি) তারই অংশ হিসেবে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলায় ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবনের আয়োজনে ও রুপান্তরে সহযোগীতায় দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটিকে ঘিরে বন সংলগ্ন উপজেলার কাটকাটা এলাকায় নেওয়া হয় নানা কর্মসূচী। আলোচনা সভায় সুন্দরবনে নতুন সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন কয়রার সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ, কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, সদস্য আশিকুজ্জামান, আমিরুল ইসলাম, সবুজ, রাসেল রানা,আমিনুর, আমিরুল ইসলাম, সুব্রত মুন্ডা, জাকি মুজাহিদ, সোমেন মুন্ডা প্রমুখ। এবার সুন্দরবন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ সুন্দরবনকে ভালোবাসুন’ জীব বৈচিত্রকে ভালোবাসুন, বাঁচাই সুন্দরবন,বন্ধ করি প্লাস্টিক ও বিষ দূষন। ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার সভাপতি নিরপদ মুন্ডা বলেন, ‘সুন্দরবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশ। সুন্দরবন মায়ের মতোই প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে আমাদের রক্ষা করে। যারা বুঝে বা না বুঝে এ বনের ক্ষতি সাধন করে আসছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ, এর টিকে থাকার ওপর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি অনেকাংশেই নির্ভরশীল।’
কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যপক আ,ব,ম আব্দুল মালেক বলেন, “আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুন্দরবন আমাদের জীবনের একটি অমূল্য সম্পদ। এটি শুধু আমাদের দেশের পরিবেশই নয়, বরং বৈশ্বিক পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাস করা বন্যপ্রাণী, ম্যানগ্রোভ গাছ, জলজ পরিবেশ—সবই পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দরবন রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”আজকের এই সুন্দরবন দিবসে আমরা একসঙ্গে প্রত্যয়ী হই, যাতে আমাদের প্রজন্ম সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পারে। প্লাস্টিক দূষণ, বনভূমির পাচার, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের উপকূলে যে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, তা সমাধানে আমাদের সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

কয়রায় আল-হেরা কুরআন-সুন্নাহ রিচার্স ফাউন্ডেশনের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : কয়রা উপজেলা সদরে অবস্থিত আল-হেরা কুরআন-সুন্নাহ রিচার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও ফাতাওয়া বোর্ডের মাধ্যমে যাকাত-ফিতরার নিসাব নির্ধারণের উপর আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় কয়রা কার্যালয় শেখ মঞ্জিলের দ্বিতীয় তলায় এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার শীর্ষস্থানীয় ও প্রবীণ ওলামায়ে কেরামগন এতে উপস্থিত ছিলেন। আল-হেরা কুরআন-সুন্নাহ রিচার্স ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মাওলানা এম,এ গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা ইমাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও ফাতাওয়া বোর্ডের উপদেষ্টা মাওলানা হাবিল উদ্দীন ওয়াহেদী। সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা মোঃ নিয়ামাতুল্লাহ ও ফাতাওয়া বোর্ডের সেক্রেটারী মাওলানা মুফতি মাহবুবুল আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন রিচার্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, এম,ফিল গবেষক মুহাদ্দিস মাওঃ আশরাফুল আলম। এ উপলক্ষে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আলী, মাওলানা এ,এইচ,এম, শাহাদাত হোসেন, মাওলানা আব্দুর রশিদ ইসলামপুরী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাহার,সাংবাদিক সদর উদ্দীন আহমেদ, রিচার্স ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দীন, রিচার্স ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আইয়ুব আলী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া হুসাইন, দাওয়াহ ও প্রচার সম্পাদক ও থানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মফিদুল ইসলাম আল আমিন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে ফাতাওয়া বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধান মুফতি মাওলানা ইলয়াস আমীন ও মুফতি ফরহাদ হোসেন । অনুষ্ঠারে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনাসহ এ বছরের সদাকায়ে ফিতরা হিসাবে সর্বনিম্ন ১শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬ শত ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আলোচনা শেষে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাওলানা হাবিল উদ্দীন ওয়াহেদী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category