সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণ খান কেসি স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করতেন আবুল কালাম (৪০)। তিনি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, আবুল কালাম পূর্বে দক্ষিণখান থানাধীন কেসি স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করা অবস্থায় একটি আবাসিক ভবনের কেয়ারটেকারের দায়িত্বরত ছিলেন। ওই দায়িত্ব পালনের সুবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ ও পার্টনারশিপের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগীরা সাংবাদিককে জানায়, আবুল কালাম অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণামূলক কৌশল গ্রহণ করেন। পাওনাদাররা তাদের টাকা দাবি করলে তিনি হুমকি প্রদান ও মিথ্যা মামলা দেয়ার ভয় দেখান এবং এক পর্যায়ে পাওনাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকরণে,এমনকি আবুল কালাম পাওনাদারদের ফোন রিসিভ করাও বন্ধকরে দেন। এক পর্যায়ে রাতের অন্ধকারে তিনি গোপনে বাসস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে চলে যান। শুধু তাই নয় তিনি পরিচয় গোপন রাখতে একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করেন এমন তথ্যও মিলেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলারও হয়। মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৩ সালে দক্ষিণখান এলাকার ভাড়াটিয়া মো: মাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই আবুল কালাম এবং ধার হিসেবে তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তার কয়েক মাস পরে গার্মেন্টস ব্যবসার পার্টনারশিপের নামে মানিকসহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা গ্রহন করেন আবুল কালাম। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় লোকসানের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করেন, আর এই ঘটনায় তার বিশেষ সহকারী আনোয়ারও তার চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং আত্মগোপনে করেন।
দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর ভুক্তভোগী মো: মাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৫ সালে আদালতে একটি ফৌজদারি মামলার করেন (মামলা নং-৫১৩/২০২৫, স্মারক নং-১০৭)। মামলার প্রাথমিক শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত আসামি আবুল কালামের বিরুদ্ধে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করলে এই প্রতারক আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগীরা সংবাদমাধ্যমকে জানায়, আবুল কালাম একজন পেশাদার প্রতারক এবং তার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের যোগসাজশ থাকার আশঙ্কা এবং শয়তানের নিঃশ্বাস ও শিশু পাচারকারী চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা সাংবাদিককে বলেন, এদের মত প্রতারকদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি। গোপন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই প্রতারক আবুল কালাম দক্ষিণখান থানার অধীনে ময়নারটেক বা মাজার রোডের আশেপাশে বসবাস করছেন।এদিকে মো: মাফিজুর রহমান জানান,এই প্রতারক আবুল কালামকে গত১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দঃখান থানার পুলিশ গ্রেফতার করে আদালত সোপর্দ করলেও প্রতারক আবুল কালাম আদালত থেকে মুছলেকা দিয়ে জামিন নেন এবং আগামি মাসে মো: মাফিজুর রহমানের পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন, তবে গোপনসূত্রে জানা গেছে, পূর্বে আরো ব্যক্তির সঙ্গে এভাবেই টাকা নিয়ে পরে গ্রেফতার হলেও ঠিক একই ভাবে জামিন নিয়ে থাকেন কিন্তু টাকা আর পরিশোধ করেন না। শুধু তাই নয় এই প্রতারক আবুল কালাম এক জায়গায় বেশি দিন বসবাস করে না, তিনি এক স্থানের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সেই স্থান পরিবর্তন করে অন্য স্থানে চলে যান। শুধু তাই নয় এই আবুল কালাম ৪ বছর পূর্বে এয়ারপোর্টে লোডা বিল্লালের নিকট থেকেও ২ লাখ টাকা ধার হিসেবে নিলেও পরবর্তীতে ৫০ হাজার টাকা এই আবুল কালম শোধ করলেও বাকি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর ফেরত দেনি এবং পাওনা টাকা এই লোডার বিল্লাল চাইতে গেলেও হুমকিধামকি দেয় এই প্রতারক আবুল কালাম। ২০২৩ সালে ঠিক একই ভাবে দক্ষিণ খান প্রেমবাগান এলাকায় রফিক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যবসায়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিলেও ১ বছর পর ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আজও পরিশোধ করেনি এই প্রতারক আবুল কালাম। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার গোলবুনিয়া সাফা বন্দর এলাকায় ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে এই প্রতারক আবুল কালাম (জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৭৯১১৪৮৩৭৯৯০০৩)। ভুক্তভোগীরা আরও জানায়, এই প্রতারক আবুল কালাম সঙ্গে কোনো ব্যক্তি ও বাড়ির মালিকরা যেনো সবধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকেন সে জন্য সতর্ক করা যাচ্ছে। এছাড়া এই প্রতাক আবুল কালামকে যেখানেই দেখা যাবে তাকে ধরে নিকটস্থ থানায় প্রেরন করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এধরনের প্রতারক যাতে আর কারোর সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করতে না পারে সে জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানা ভুক্তভোগীরা।