• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা আসলে মানুষ নয় : ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির পক্ষে কাজ করতে গেলে যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে ফেলতে চায় তারা আসলে মানুষ নয়। আল্লাহ না করুক তারা যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের পরিবেশ কেমন হবে চিন্তা করুন! মা বোনরা ঐক্যবদ্ধ-আগামী ১২ তারিখ এর ফল দেখতে পাবেন। গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়াক নাহিদ ইসলাম, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহনগরী আমীর আব্দুল জব্বার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মশিউল আলম ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এনসিপির ঢাকা জেলা সমন্বয়ক রাসেল মোল্লা, ছাত্রশিবিরের ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি মাহমুদ আল সিয়াম, এনসিপির ঢাকা-২০ আসনে এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাশদিদ, ঢাকা-১৯ আসনে প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক, ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যরিস্টার নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি চিন্তা করেনি ফ্যাসিস্টরা অপদস্ত হয়ে বাংলাদেশে ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি নির্বাচন হবে। জাতি চিন্তা করেনি ছোপ ছোপ রক্ত ও সারি সারি লাশ থেকে রেহাই পাবে। তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তারাই বাংলাদেশের ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ারবাজার লুট করেছে। জনগণেরে পকেট কেটেছে, দেশকে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছে ও দুর্নীতিতে দেশকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, জুলাই স্মৃতিঘরে স্বৈরাচারের আয়না ঘরের অনেক প্রটোটাইপ করে রাখা হয়েছে। আগামীতে যারা দেশ পরিচালনা করবেন তাদের দেখে আসা উচিৎ। মানুষের সাথে জুলুম করলে কি পরিণতি হতে পারে, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
তিনি বলেন, দেশকে যারা ভালোবাসে তারা মানুষকে শান্তি দিতে চায়, আর যারা দেশকে ভালোবাসে না তারা মানুষকে কষ্ট দেয়। জামায়াতের শীর্ষ ১১ জনকে মিথ্যা অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে। দলের সব অফিস সাড়ে ১৩ বছর বন্ধ রাখা হয়েছে। ১ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকেও হত্যা করা হয়েছে। নেতাকমীদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়েছে, শেষ পর্যন্ত দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দলের ভূমিকা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা প্রতিশোধ নেব না বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবার যদি আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমাদের অনুরোধে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্ষতিদগ্রস্ত অফিস ও অন্যান্য স্থাপনা দিনে-রাতে ১৫ লক্ষ নেতাকর্মী সারা দেশে পাহারা দিয়ে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রীরা তারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়ে দেশের মানুষের রক্ত ও সম্পদ নিয়ে খেলা করেছেন। এরা স্বার্থপর, মুনাফেক, এরা যা বলত তা করত না। অনেককে হত্যা করে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্মা নদীতে ফেলা হয়েছে। যাদের হত্যার পর শরীরে ইট বেঁধে বা বুক চিরে ইটে ঢুকিয়ে কিংবা সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়া হতো। এমনকি অনেক লাশ কেটে মাছের খোরাকে পরিণত করা হয়েছে।
জুলাইকে স্বীকৃতি না দেয়ার ষড়যন্ত্র করা একটি দলের সমালোচনা করে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা আশা করিছিলাম তারা জুলাইকে সম্মান করবে। কিন্তু শহীদ পরিবারের সদস্যদের অসস্মান করা হয়েছে। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে, তাদের পাত্তাই দিলো না।
মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাদের বর্তমান দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই সম্মান করার মানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিরীহ মানুষের জমি দখল ও মামলা বাণিজ্য, মায়ের গায়ে হাত দেয়া হতে পারে না- এটি জুলাই চেতনার সাথে যায় না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ও সংস্কারে জন্য গণভোট বিষয়ে তারা সামনে আগাতে দেয় না। পরে যখন জনগণ ঠেলা দিয়েছে তখন অর্থাৎ গতকাল থেকে তারা গণভোটের বিষয়ে কথা বলা শুরু করেছে। তিনি বলেন, জুলাই না হলে ২০২৬ সালে কিসের নির্বাচন, জুলাই না হলে তো ফ্যাসিবাদের অধীনে ২৯ সালে নির্বাচন হতো। ২৬ সালে নির্বাচন চাইব আবার জুলাই মানবো না, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না এটি হতে পারে না।
পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা বলেছি- বাংলাদেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত করব। মা-বোনদের ইজ্জত প্রতিষ্ঠা করব। ব্যাংক ডাকাতি শেয়ারবাজার লুট বন্ধ করব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যারা নিজেরা বছরের পর উধাও হয়েছিল, তারাই আবার মজলুমদের বলে গুপ্ত আর সুপ্ত। বাদ দেন এগুলো, সমালোচকদের আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
গণভোটে দলের দাবির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম গণভোটটি আগে হোক। তাহলে গণভোট সুন্দর হবে, জাতীয় নির্বাচনও সুন্দর হবে।
যুব সমাজের উদ্দেশে আমীরে জামায়াত বলেন, যারা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবসমাজের অধিকার না দেয়ার কারণে তারা পালিয়ে গেছে। তাদের হাত গড়ে দেবো ও সম্মানের কাজও তুলে দেবো। বেকারভাতার কথা বলে তারা আমাদের যুব সমাজকে অপমান করতে চান।
তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোটের জয় হবে। হ্যাঁ মানে আজাদি না মানে গোলামী। আমরা আবরার ফাহাদ ও শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। পরে তিনি প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন। এরাই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। আর কেউ আমাদের প্রার্থী নেই, বলেন ডা. শফিকুর রহমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category