সবুজবাংলা২৪ডটকম, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অমানুষিক নির্যাতন ও বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত পুত্রকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রাম থেকে অভিযুক্ত পুত্র হাসানুর রহমান হাসু (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাহাবুব ইসলাম (৭২) ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাদের একমাত্র পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিশ্বাস ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তারা বসতবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি পুত্রের নামে লিখে দেন। কিন্তু পরবর্তীতে পুত্র হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী উম্মে মাহাবুবা সোমা (৪৫) যৌথভাবে বৃদ্ধ পিতা-মাতার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠে।
একপর্যায়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে খাবার না দেওয়া, গালিগালাজ, মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয় এবং একাধিকবার বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। নিরুপায় হয়ে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় বৃদ্ধ পিতা মোঃ মাহাবুব ইসলাম গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় মামলা নং–৪ দায়ের করেন।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সন্তান কর্তৃক বাবা-মায়ের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ সামাজিক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
পলাশবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে এবং অপর অভিযুক্ত পুত্রবধূকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভেঙ্গে পরেছে পলাশবাড়ী উপজেলার প্রশাসনিক ব্যবস্থা! কর্মস্থলে নেই কর্মকর্তারা!জন সেবায় চরম ভোগান্তি
বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) : ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ঘড়ির কাটায় ঠিক বেলা সারে ১১ টা,পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ প্রশেশ করে দেখা যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার,সমাজসেবা অফিসার ও নির্বাচন অফিসারবসহ ২ এক কর্মকর্তা ব্যাতীত কোন কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া নি।
গত ২ দিন অনুসন্ধান করে দেখা যায় কোন কোন কর্মকর্তা অঘোষিত ছুটিতে, কেউ বা রাস্তার মধ্যে কেউ আবার অফিসে আসেন নাই।কেউ বা বাহিরে আছে,কেউ একাধিক উপজেলার দায়িত্বে আছেন বলে জানান।
উল্লেখযোগ্য দপ্তর গুলোর মধ্যে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, হিসাবরক্ষক অফিসার, মহিলা বিষয়ক অফিসার, সমবায় অফিসার,যুব উন্নয়ন অফিসারসহ একধিক দপ্তর কর্মকর্তা শুন্য।এতে করে জন সেবায় চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ জানান, অফিসার না আসায় জন দুর্ভোগের কোন অভিযোগ পাইনি।সাংবাদিকের আমার কথা কি অভিযোগ নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে ইএনও বলেন আপনি লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুুর রহমান মোল্লা বলেন সরকারি দায়িত্ব অবহেলা করলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।এ ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
বিভাগীয় কমিশনার রংপুরে সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে মতামত গ্রহন করা সম্ভব না হলে ও পরিচালক যুগ্ম সচিব স্থানীয় সরকার আবু জাফর মহোদয় বলেন বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপর বর্তায়। তারপর ও মতামত বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের নেয়া প্রয়োজন।