সবুজবাংলা২৪ডটকম, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পেশি শক্তির অনুবলে আদালতের রায় অমান্য করে জমি দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিদা আক্তার। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি ২৬ ইং) সকাল ১১ টার সময় মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। এসময়ে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে জাতীয়, আঞ্চলিক প্রিন্ট পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে লেখুনির মাধ্যমে সারা দেশবাসীকে ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী যা বললেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী শাহিদা আক্তার স্বামী মোজাম্মেল গাজী, সাং মিরুখালী, থানা মঠবাড়িয়া, জেলা পিরোজপুর। আমি আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে একটি বিষয়ে প্রকাশ করার জন্য আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। প্রকৃত ঘটনার বিবরন এই যে, মিরুখালী ইউনিয়নের মিরুখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত লাল গাজীর ছেলে সোবাহান গাজী আমার শ্বশুর। জেএল ১২ নং এর মিরুখালী মৌজার এস এ ৩৫৪ নং খতিয়ানের হাল ২৭৬, ২৯৭ ও ৩০১ নং দাগের রেকর্ডীয় মালিক আমার দাদা শ্বশুর লাল গাজীর বাবার থেকে ওয়ারিশ হতে প্রাপ্ত সম্পত্তির বেশি বিক্রি করিয়া নিঃস্বত্ত্ববান হয়ে মৃত্যুবরন করিলে ২ পুত্র সন্তান সোবাহান গাজী ও চান গাজীকে রেখে যান। এমতাবস্থায় আমার চাচা শ্বশুর চান গাজী মিরুখালী গ্রামের বাসিন্দা মৃত মফেজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আঃ রব হাওলাদারের নিকট ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। কিন্তু আমার চাচা শ্বশুর আঃ রব হাওলাদারকে জমির কোন দখল বুঝাইয়া দেন নাই। কেননা আমার চাচা শ্বশুর চান গাজীর ওয়ারিশ হিসেবে কোন সম্পত্তি পায় নাই। আঃ রব হাওলাদার জমি কখনও ভোগ দখল করেন নাই ও দাবীও করেন নাই। এদিকে আমার দাদা শ্বশুর লাল গাজী যাদের কাছে জমি বিক্রি করে গেছে তাদের কাছ থেকে ০৪/০৯/২২ ইং তারিখ ৮৩ নং সাফ কবলা দলিল মুলে আমার শ্বশুর সোবহান গাজী ১৩ শতাংশ জমি এস এ ৩৫৪ নং খতিয়ানের ২৭৬, ২৯৭ ও ৩০১ নং দাগ হইতে ক্রয় করিয়া ভোগ দখল করে আসছে। এমতাবস্থায় আঃ রব হাওলাদার ফ্যাসিষ্ট আ.লীগের কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে মৃত্যু লাল গাজীর সম্পত্তি দাবী করিয়া পেশী শক্তির অনুবলে গত ০১/০৩/২৪ ইং তারিখ জবর দখল করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ১৪/০১/২৫ ইং তারিখ মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন ফয়সালা পাননি। পরে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে আমি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে (মামলা নং এম.পি ১৬৫/২৫) মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ১৮/০৯/২৫ ইং তারিখ আমাদের পক্ষে রায় দেন। এদিকে আমরা আদালতের রায় অনুযায়ী জমিতে গেলে বিবাদীরা আমাদের উপরে চড়াও হয় এবং আমাদের পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পরে আদালতের তামিল আদেশের মাধ্যমে আমরা উক্ত জমিতে পাকা পিলার ও লোহার তারকাটা দিয়ে বেরা আটকিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ভোগ দখল করতে থাকি। এমতাবস্থায় গত ২২/১২/২৫ ইং রোজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের জমিতে থাকা তারকাটা বেরা সহ পাকা পিলার ভেঙে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে। এতে আমরা বাঁধা প্রদান করলে আমাদেরকে মারধর সহ শ্লীলতাহানি ঘটায়। বিষয়টি নিয়ে আমি বাদী হয়ে ০৪/০১/২৬ ইং তারিখ রবিবার মোকাম মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। যার মামলা নং ০৮/২৬। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে মঠবাড়িয়া থানার ওসিকে তদন্তের মাধ্যমে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন। আমি বর্তমানে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। কারন আমি সহ আমার পরিবারের লোকজনকে যে কোনো সময়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা সহ অতর্কিত হামলা চালাতে পারে। আমি আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচারের দাবি জানাই। পরিশেষে আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার কথাগুলো শুনলেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলে আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। উক্ত বিষয়টির দ্রুত সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শাহিদা আক্তার।