সবুজবাংলা২৪ডটকম, কয়রা (খুলনা) : কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নে চরমপন্থী পরিচয়ে সংখ্যালঘুর জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীরা। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে আমাদী ইউনিয়নের বেজপাড়া গ্ৰামের মৃত্যু জামাল উদ্দিন ঢালীর পুত্র মতিয়ার রহমান ঢালী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী তাসলিমা বেগম ২০০০ সালে স্থানীয় শীবনাথ মন্ডল ও কিরনী বালার কাছ থেকে ৫.৮৫ একর জমি ক্রয় করেন,১৯৯৪ সাল সেরাজুল গং ক্রয় করেন ৫ বিঘা,১৯৯২ সুবোধ গং ৬ বিঘা, মোসলেম গং ১০ বিঘা,এরপর তারা নিয়মিত নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘ ২১ বছর ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০২১ সালে বিক্রেতার ছেলে প্রদীপ কুমার মন্ডল ভারত থেকে ফিরে এসে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের সহায়তায় জমিটি জোরপূর্বক দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি দখলের সময় তারা তাসলিমা বেগমের বাড়ি ভাঙচুর, গাছ নিধন এবং মাছের ঘের লুটপাট করেন। প্রদীপ মন্ডলের স্ত্রী লিপিকা মন্ডল চরমপন্থী নেতা অসীম বৈরাগীর মেয়ে। তারা এলাকায় ‘গোপন পার্টি’র দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রদীপ মন্ডল ভারতীয় আধার কার্ডধারী হওয়া সত্ত্বেও জাল ওয়ারেশ সনদের মাধ্যমে নিজেকে একমাত্র মালিক দাবি করছেন। অথচ তার অন্য দুই ভাই ভারতে অবস্থান করছেন। এছাড়াও তিনি একটি হত্যা মামলার সাবেক আসামি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।নপ্রশাসনের অবস্থান ও ভুক্তভোগীদের আকুতি : বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত ও এসি ল্যান্ড অফিসের সালিশে প্রদীপ মন্ডলের দাবি বাতিল হলেও তিনি গায়ের জোরে জমি ছাড়ছেন না। দখলকারী দম্পতি উল্টো স্থানীয় প্রশাসন, ভুমি কর্মকর্তা ও পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমিদস্যুদের গ্রেফতার ও জমি উদ্ধারে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
কয়রায় সিএসও কমিটির অর্ধ-বার্ষিক সভা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : কয়রা উপজেলা সুশীল সমাজ সংগঠন( সিএসও) কমিটির অর্ধ- বার্ষিক সভা ২৮ ডিসেম্বর বেলা ১১ টায় প্রগতি শিশু শিক্ষা নিকেতনে অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ন জনগােষ্ঠির অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষো বে- সরকারী উন্নয়ন সংস্থা বারসিক এর এনগেজ প্রকল্পর সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কয়রা উপজেলা সিএসও কমিটির সভানেত্রী আনজুমানারা বেগমের সভাপতিত্বে ও বারসিকের এনগেজ প্রকল্পের এরিয়া কর্মকর্তা বাবলু জােয়াদ্দারের সঞ্চলনায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের প্রকল্প সম্ময়কারী মাহবুবুর রহমান , উপজেলা সিএসও কমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান মনু, উপজেলা সিএসও কমিটির সদস্য মােঃ রিয়াছাদ আলী, শিক্ষক আব্দুর রউফ, মুনসুর রহমান সানা, ফজর আলী সরদার,আশিকুজ্জামান, রােজিনা খাতুন, রত্নেশ্বর রায় , রাসেল আহমেদ, নাসরিন সুলতানা,মামুন কবির, উম্মে হাবিবা প্রমুখ।
কয়রায় প্লাষ্টিক পলিথিন দূষন প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের করনীয় বিষয়ে কর্মশালা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : কয়রায় পলিথিন ও প্লাস্টিক দুষন প্রতিরোধে বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের করনীয় বিষয় নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে । রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুপান্তরের সহযোগীতায় ও ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন কয়রার আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার সভাপতি নিরপদ মুন্ডা। কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ, ব,ম আঃ মালেকের সভাপতিত্বে ও ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল আহমেদের পরিচালনায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ তোরাব আলী উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার এস.এম আকরাম হোসেন, কয়রা বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, আমাদী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হামিদ সানা, রুপান্তরের প্রকল্প সমন্বয়কারী অনুপ কুমার রায়, কয়রা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন হোসেন, মোঃ জালাল উদ্দীন, ননী গোপাল মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,প্লাস্টিক ও পলিথিন এখন পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন আমাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্য মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই দূষণ রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। আলোচনা শেষে ব্যবসায়ীদের মাঝে পরিবেশ বান্ধব চটের ব্যাগ বিতরন করা হয়।