সবুজবাংলা২৪ডটকম, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, গোপালগঞ্জে দাখিল হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী এসমোতারা বেগম (৩৫), পিতা মজলেক শেখ, সাং চর কুশলী, থানা টুঙ্গিপাড়া, জেলা গোপালগঞ্জ।
বিবাদী দুলাল শেখ (৪০), পিতা মৃত বিষ্ণয় শেখ, একই এলাকার বাসিন্দা।
এসমোতারা বেগম তার এ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন, প্রায় এক বছর আগে দুলাল শেখের সঙ্গে আমার বিবাহ হয়। কিন্তু বিভিন্ন পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমাদের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ হতো। শেষ পর্যন্ত তিন মাস আগে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে খোলা তালাক হয়। এরপর থেকে আমি আমার পিত্রালয়ে থাকি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তালাকের পরও দুলাল শেখ আমাকে মোবাইল ফোনে বারবার উত্যক্ত করত, অশ্লীল ভাষায় কথা বলত। আমি বিষয়টি তার পরিবারের কাছে এবং গ্রামের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জানাই। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়।
এসমোতারার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (শুক্রবার) রাত ৮টার দিকে, তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে, ওৎ পেতে থাকা দুলাল শেখ তার মুখ চেপে ধরে পিতার বাড়ির পেছনের বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মাটিতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
আমার মুখে কাপড় গুঁজে রেখেছিল। ধস্তাধস্তির সময় কাপড়টা খুলে গেলে আমি চিৎকার করি। তখন আশপাশের লোকজন দৌড়ে এলে দুলাল পালিয়ে যায়, বলেন এসমোতারা।
সাক্ষী মজলে শেখ (৫০) ও হাজেরা বেগম (৪৫) জানিয়েছেন, চিৎকার শুনে আমরা টর্চ নিয়ে বাগানে যাই। তখন দুলালকে পালিয়ে যেতে দেখি। ঘটনাস্থলে এসে এসমোতারাকে কাঁদতে দেখি।
ভুক্তভোগী জানান, আমি থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিলে আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুলাল শেখ সাংবাদিকদের বলেন, এসমোতারা আমার প্রাক্তন স্ত্রী। সে আমার পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়িত। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আপনারা মামলার আইও’র (ওহাবংঃরমধঃরড়হ ঙভভরপবৎ) সঙ্গে কথা বলতে পারেন। মামলার আইও এসআই মাহফুজের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
ইউপি সদস্য আসলাম শেখ বলেন, ঘটনাটি গতকাল আমি জানতে পারি, বিষয়টি আদালতে গেছে, তাই আইনি প্রক্রিয়ায় সত্য উদঘাটন হবে বলে আশা করছি।
এদিকে এসমোতারা বেগম সাংবাদিকদের আরও জানান, তালাকের ছয় দিনের মাথায় সে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছে আসে এবং প্রতারণার আশ্রয় নেয়। আমি এখন শুধু ন্যায়বিচার চাই আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এই অন্যায়ের সঠিক বিচার যেন আদালত করেন।