সবুজবাংলা২৪ডটকম, পিরোজপুর : দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চর বলেশ্বর গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডের ফাহিমা বেগম। গত শুক্রবার সকালে বিরোধী পক্ষ মোহাম্মদ লোকমান আজাদ ও সোনিয়া জোর পূর্বক তার জমিতে বেড়া দিতে গেলে এই সন্ত্রাসী হামলা চালায়।
ঘটনার বর্ণনায় এখনও আতঙ্কিত ফাহিমা বেগম (রোগী শয্যাশায়ী থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানান), “ওরা আমাদের জমি দখল করতে চায়। সেদিন সকালে কথায় কথায় বিবাদ বাঁধে। আমি বাধা দিলে লোকমান ঘর থেকে রামদা নিয়ে এসে আমার মাথায় নির্মমভাবে আঘাত করে। এরপর আজাদ ও সোনিয়া হাতে থাকা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আমার পুরো শরীরে পিটিয়ে যায়। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরত আনা ফাহিমা বেগমকে প্রথমে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে পিরোজপুর জেনারেল হাসপিটালে রেফার করা হয়। দুইদিন চিকিৎসার পরও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়, গুরুতর জখম নিয়ে তাকে খুলনা শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপিটালে (আড়াইশ শয্যা হাসপিটাল) ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন।
হামলার খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও, অভিযোগের তদন্ত শুরুর আগেই আসামিরা ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফাহিমা বেগমের ভাই ও বোন থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ফাহিমা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আবেগময় আবেদন জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, “লোকমান, আজাদ ও সোনিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করছে, এমনকি মৃত্যুর হুমকিও দিচ্ছিল। এবার তারা তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করেছে। আমরা শুধু একটি সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে হাত পেতে চেয়ে বসে আছি। আমাদের রক্তের বিনিময়ে যেন ন্যায়বিচার মেলে।”
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরছেন না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও ফাহিমা বেগমের পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একটি সাধারণ জমি বিরোধ কীভাবে এতটা মাত্রার হিংস্রতায় রূপ নিল, তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একটি মা, একজন স্ত্রী কিংবা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ফাহিমা বেগমের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সকলের কাম্য।

পিরোজপুরের বাইপাস রানীপুর এলাকায় আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই
নিজস্ব প্রতিনিধি : পিরোজপুর পৌরসভাধীন ০৯ নং ওয়ার্ডের বাইপাস রানীপুর এলাকায় রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে আগুনে পাঁচটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাইপাস রানীপুর বাজারের দোকানগুলোতে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তাদের এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
অগ্নিকাণ্ডে একটি মোদি মনোহরি দোকান, একটি স্বর্ণের দোকান, একটি পোল্টি মুরগি ও মুরগির খাবারের দোকান এবং একটি ফার্নিচারের দোকান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়। ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন ইনচার্জ যুগল বিশ্বাস জানান, আগুনের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
দূর্ঘটনার খবর শোনামাত্রই পৃথক পৃথক সময়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর এর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান,পিরোজপুর এর পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,পিরোজপুর পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ সরোয়ার হোসেন হাওলাদার,পিরোজপুর ১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ সাঈদি।