সবুজবাংলা২৪ডটকম, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : চীনে অবস্থানকালে চাইনিজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশ বিরোধী মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর রিপন চন্দ্র শীল (পাসপোর্ট নং : অ১৯০৮৫৯৯৪)।
রিপন চন্দ্র শীল ইন্দুরকানী উপজেলার ৪নং ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কার্তিক চন্দ্র শীলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন চন্দ্র শীল পূর্বে সেলুনের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চলতি বছরের ১৭ মার্চ এক চাইনিজ ব্লগার তাকে নিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করে চীনের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল “গ্লোবাল স্টোরি”-তে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর তিনি প্রায় ৫০টিরও বেশি ভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন চাইনিজ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পরিচিতি লাভ করেন।
২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এক ব্যবসায়ীর আমন্ত্রণে চীনের একটি শহরে সফরকালে রিপন চন্দ্র শীল লাইভ সম্প্রচারে বাংলাদেশ সম্পর্কে অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন
“বাংলাদেশ একটি অনুন্নত ও নোংরা দেশ, এখানে মানুষের বসবাসের উপযোগিতা নেই।”
এমনকি তিনি দাবি করেন, তার পরিবার বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে— যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। রিপনের এই মন্তব্য মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগে রিপন শীল সেলুন ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এলাকাবাসী বলেন,
“রিপন শীলের পরিবারের সবাই এখনো বাংলাদেশে থাকে। সে বিদেশে গিয়ে মাতৃভূমি নিয়ে এমন কথা বলে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ ঘটনায় সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এ ধরনের প্রবণতা রোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
রিপনের বড় ভাই বাদল চন্দ্র শীল বলেন, “আমার ভাইয়ের সঙ্গে অনেক বছর যোগাযোগ নেই। বাংলাদেশ নিয়ে তার এমন বক্তব্যে আমিও হতাশ। আমরা ভালো আছি, কেউ আমাদের নির্যাতন করছে না— তার কথাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
চীনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর মাতৃভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন ইন্দুরকানীর রিপন শীল। দেশপ্রেমিক মহলে ক্ষোভ রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি।