সবুজবাংলা২৪ডটকম, কয়রা (খুলনা) : সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ দিতে জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ এবং পরে সেই জেলেদেরই মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর মতো অভিযোগ উঠেছে খুলনা রেঞ্জের ভোমরখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। অগ্রিম টাকা পরিশোধ করার পরও প্রতারণা করে সাত জন গরিব জেলেকে আটক করে বন আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। সোমবার( ৬ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলেদের পক্ষে ৪নং কয়রা গ্রামের মোঃ রজব আলী এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে রজব আলী দাবি করেন, ওসি আব্দুল হাকিম দীর্ঘদিন ধরে ১০টি জেলে নৌকাকে অভয়ারণ্যে প্রবেশের সুযোগ দিতেন। বিনিময়ে প্রতি দশ দিনে (এক গোনে) নৌকা প্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা অগ্রিম নিতেন। তিনি জানান, ওসি এই ঘুষের টাকার একটি অংশ ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের’ দিতে হয় বলে দাবি করতেন। তবে সম্প্রতি ওসি আব্দুল হাকিম অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে অন্য দালালচক্রের জেলেদের সুযোগ দিতে শুরু করেন এবং তাঁর দলের জেলেদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেন। রজব আলীর অভিযোগ, এর আগে টাকা লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে মহাজনের কাছে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট থাকলেও, ওসি প্রতারণার পর সেই কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অগ্রিম টাকা পরিশোধ থাকা সত্ত্বেও গত ২ অক্টোবর ওসি আব্দুল হাকিম তাদের দলের সাতজন জেলেকে আটক করে আরও টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় দুই দিন আটকে রেখে গত ৫ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রজব আলী আরও অভিযোগ করেন, আটক জেলেদের নৌকায় পাঁচশ কেজির বেশি মাছ ছিল, কিন্তু ওসি হাকিম আদালতে মাত্র ৫০ কেজি দেখিয়ে বাকি মাছ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ওসি আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কারাগারে পাঠানো গরিব জেলেদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বন কর্মকর্তার কাছে জানার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কয়রার বিভিন্ন সমস্যা টিহৃিতকরণ সমাধান ও উন্নয়নের পরিকল্পনা বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠক
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : কয়রা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা টিহৃিতকরণ, সমাধান ও উন্নয়নের পরিকল্পনা বিষয়ক এক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন কমিটি এই গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন কমিটির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী। এতে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবুল ফজেল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ মামুনার রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, কয়রা সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক সদর উদ্দিন আহমেদ, পল্লী বিদ্যুৎতের ডিজিএম মোঃ নওশের আলী,কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন, কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ,ব,ম আঃ মালেক,,সাংবাদিক মোঃ রিয়াছাদ আলী, মোঃ কামাল হোসেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম লুৎফর রহমান, দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ওসমান গনি খোকন, ইউপি সদস্য আবু হাসান, সমাজসেবক মাওলানা সালাউদ্দিন, আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ, আব্দুল কায়ুম, আঃ হামিদ, ফরিদ রহমান, এনজিও প্রতিনিধি মোস্তাক আহমেদ, মোঃ মিজানুর রহমান, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন কমিটির সদস্য রাসেল আহমেদ, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। গোল টেবিল বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।