সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : সুবর্ণচরে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে আশার প্রদীপ হয়ে আলো ছড়াচ্ছে সামাজিক ও মানবিক ‘আলোর প্রদীপ’ নামে সংগঠনটি। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি বিভিন্ন সময়ে উপজেলার ৭নং পূর্ব চরবাটার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে বার বার। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোর প্রদীপ সংগঠন স্কুল ব্যাগ, মাম পটও বিতরন করেছে। চলতি বছরে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৩০ জন নিম্ম আয়ের নারী-পুরুষের মাঝে চাউল, তেল, আটা, আলু,চিনি, বিতরণ করা হয়। এরপর, গত ২ মাসে চরবাটা, পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে কিডনিজনিত সমস্যায় জর্জরিত কয়েকটি অসহায় পরিবার কে আর্থিক অনুদান দিলেন আলোর প্রদীপ সংগঠন। উপজেলার ৭নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের যোবায়ের বাজার এলাকায় মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে যুব সমাজকে বিরত রাখতে কাউন্সিলিং করে যাচ্ছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবিরা প্রতিনিয়ত। তাই ভালো কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয় তিন সদস্যকে। পুরষ্কার বিজয়ীরা হলেন, মোহাম্মদ হৃদয় মাহমুদ, ঈমাম হোসেন জয়,খায়রুল ইসলাম আজাদ। আসছে মাহে রমজানের পূর্ব সময়ে রমজান মাসকে সামনে রেখে সংগঠনের প্রতিনিধিরা অসহায় পরিবারকে একান্ত গোপনীয়তায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ ইফতারের প্যাকেজ বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন এ প্রতিবেদকে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা দুবাই প্রবাসী দিদার হোসেন জাহাঙ্গীর ও বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বাপ্পি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদের রহমান দৈনিক সংবাদের এ প্রতিনিধিকে জানান, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্টগুলোকে কিছুটা কমিয়ে নিয়ে আসার লক্ষে আমরা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা চাই চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষগুলোকে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং সময় উপযোগী মানবিক কার্যক্রমে মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এভাবে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘আলোর প্রদীপ সংগঠন’ একটা মাধ্যম হিসেবে সকল সদস্যরা মানুষের সেবা করে যেতে চাই। যোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতুল চন্দ্র নাথ বলেন, এখনো পর্যন্ত সংগঠনটির কার্যক্রম আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি সংগঠনটি ভালো কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বহূদুর। উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশে তরুণ সমাজ এগিয়ে আসবে মানবিক, সামাজিক কার্যক্রমে এমন প্রত্যাশা কামনা করি। আলোর প্রদীপ সংগঠনের কার্যক্রম গুলো শুনে খুঁশি হয়েছি। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের পক্ষ থেকে তাদের সফলতা কামনা করছি। যে কোন যুক্তিক প্রয়োজনে সংগঠনটি কে সার্বিকভাবে সহায়তা করবে যুব উন্নয়ন অধিপ্তর এমনটি নিশ্চিত করেন প্রতিবেদকে।
নোয়াখালীতে তারেক রহমানের পক্ষে ৩২ পূজামণ্ডপে উপহার দিলেন ফখরুল ইসলাম
একেএম শাহজাহান : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে নোয়াখালী-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১৩টি এবং কবিরহাট উপজেলা ও সদরের নেয়াজপুরের একটিসহ ১৯টা পূজামণ্ডপের প্রত্যকটিতে ১০ হাজার করে তিনলাখ ২০ হাজার টাকা অনুদানসহ শাড়ি-লুঙ্গি উপহার দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পরিদর্শন করে এ সব বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেন। মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্রের নায়ক তারেক রহমান একজন অসাম্প্রদায়িক নেতা। তিনি দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়কে নিয়ে সমানভাবে চিন্তা করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের এ দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্টদের সময় হিন্দুদের সুবিধাবঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। বহু নির্যাতনের শিকার হলেও তারা কোথাও বিচার পায়নি। আগামীতে এমন পরিস্থিতির আর সুযোগ নাই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের সব নাগরিক সমান সুবিধা পাবে।’ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আফতাব আহমেদ বাচ্চু, আনিছুল হক, সাবেক ইউপি সদস্য একরামুল হক মিলন, হারুন ভুঁইয়া, মেট্রো হোমস লিমিটেডের পরিচালক যুবাইর ইসলাম ফারুকীসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মো. ফখরুল ইসলাম ২০০১ সাল থেকে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন। ২০০৯ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মনোনয়নে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে জয়ী হন। এরপর দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। বর্তমানে তিনি মওদুদ আহমদের শূন্যতায় নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
হাতিয়াতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখল বাজদের ঠাঁই হবে না- শামীম
একেএম শাহজাহান : এত সুন্দর হাতিয়া বিগত দিনে যাতায়াত ব্যবস্থার কোন উন্নত হয়নি। হাতিয়াতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখল বাজদের ঠাঁই হবে না। যারা জনগণের অধিকার হনন করতে চাই, আমরা আপনাদের সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করবো । সংখ্যা লগু কিংবা সংখ্যা গুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। হাতিয়া উপজেলা ও পৌরসভা ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম এই কথা বলেন, এসময় তিনি আরো বলেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে হাতিয়ার যাতায়াত, নদী ভাঙন ও পর্যটন সহ সকল সমস্যা সমূহ নিয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। সোমবার বিকেলে উপজেলা শহরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো:আলা উদ্দিন রনি, একেএম ফজলুল হক খোকন, সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদ, লুৎফুল্লাহিল মাজিদ নিশান, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোকাররম বিল্লাহ সাহাদাত,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক রিয়াজ মাহমুদ, সদস্য সচিব আব্দুল হালিম, যুগ্ন আহবায়ক আইয়ুব চৌধুরী, পৌরসভা ছাত্রদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু,সদস্য সচিব ফরাদ হোসেনসহ বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সোনাইমুড়ী উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের পরিবার বসবাস করছে হাসপাতাল ভবনে, রোগীদের পাঠানো হচ্ছে ব্যক্তিগত ক্লিনিকে
একেএম শাহজাহান : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দখল করে রেখেছেন ওই ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সুমন। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি আজ কার্যত ব্যক্তিমালিকানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হয়ে হতদরিদ্র রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন, আর এ সুযোগে হাসপাতাল ভবনে বসবাস করে অর্থের বিনিময়ে ‘ডেলিভারি সেবা’ দিচ্ছেন এক সরকারি চাকরিজীবীর স্ত্রী, যাঁর কোনো সরকারি নিয়োগই নেই। সরেজমিনে যা দেখা গেল. রবিবার (স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল দরজাটি সবসময় বন্ধ থাকে। কর্মরত আয়াসহ ছকিনা বেগম এসে দরজা বন্ধ পেয়ে বাইরে বসে ছিলেন। জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মমতাজ বেগমের সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) আসার কথা থাকলেও তিনি বিগত দুই বছর ধরে নিয়মিত আসেন না। তাঁর পোস্টিং পাশ্ববর্তী আমিশাপাড়া ইউনিয়নে হলেও, সেখানেও তাঁকে খুব কম দেখা যায়। সেই সুযোগে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সুমন সরকারি ভবনটি দখলে নিয়ে পরিবার-পরিজনসহ সেখানে বসবাস করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি এখন কার্যত তাঁর ব্যক্তিগত দখলে চলে গেছে। মূল ফটক সবসময় বন্ধ থাকায় সাধারণ রোগীদের প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা মো. শরিফ বলেন, সরকারি ভবনটি সুমন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তার কোনো সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও এখানে ডেলিভারির কাজ করেন। একজন রোগীর কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সুমনের মালিকানাধীন সোনাইমুড়ী বাজারের নিউ নূরানী হাসপাতালে রোগী পাঠানো হয় এই ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে, এবং সেই বিনিময়ে কমিশন আদায় করা হয়। এসব অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হলেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ হিরন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার থাকলেও নিয়মিত আসেন না। অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষ স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যরা বসবাস করছেন। একজন মহিলা যিনি কোনো সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নন, তিনিই এখন এখানে ডেলিভারি করেন এবং এর বিনিময়ে টাকা নেন। তিনি আরও জানান, এই নারীকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এর সবই হচ্ছে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে। ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন সরকারি নীতিমালার চরম ব্যত্যয় ঘটছে এই কেন্দ্রটিতে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে এসব অনিয়ম চালু থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।এখন প্রশ্ন উঠেছে পাঁচ বছর ধরে একটি সরকারি হাসপাতাল ভবন দখলে রেখে, নিয়মবহির্ভূত বসবাস ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কে বা কারা দিচ্ছে? কোনো তদন্ত হচ্ছে না কেন? স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না?সরকার যেখানে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে এ ধরনের উদাহরণ গোটা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার জানান, হাসপাতালটিতে এক বছর ধরে কোনো ওষুধের বরাদ্দ নেই। সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একজন মহিলাকে ডেলিভারি করানোর জন্য ‘নিয়োগ’ দেওয়া হয়েছে। তিনিই পরিবার-পরিজন নিয়ে হাসপাতালে থাকেন এবং সেবা প্রদান করেন।