• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

এখন শান্ত মনে জাতিসংঘের দিকে রওনা হতে পারবো: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : ‘এবার মনটা শান্ত হলো যে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আপনাদের সঙ্গে দেখা হলো। আপনারা সাক্ষ্য দেবেন যে আমি হাজির ছিলাম। এখন শান্ত মনে আমি জাতিসংঘের দিকে রওনা হতে পারবো। সবাই দোয়া করবেন, আশীর্বাদ করবেন, নমস্কার।’
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকালে এ কথাগুলো বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
চলতি মাসের শেষ দিকে যখন শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে তখন প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সম্মেলনে থাকবেন। এ কারণে তিনি আগাম শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হাজির হন।
এ সময় দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নিজেরা বিভক্ত হয়ে গেলে, ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে আমরা জাতি হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যাব। আমরা জাতি হিসেবে ব্যর্থ হতে চাই না। আমাদের তরুণরা জেগেছে। আমাদের মানুষ জেগেছে। আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, সেটা নিশ্চিত করতে চাই। তা না হলে এত রক্তপাত, এত আত্মত্যাগের কী ফল পেলাম?
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা ২০২৪-এর জুলাইয়ে যে অসাধ্য সাধন করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। এখানে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা সে যে ঘরেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন, সে ছেলে হোক আর মেয়ে হোক, সবাই নাগরিকের সমান সুবিধা পাবে। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার শক্তি তাদের আছে। তারা কেউ বন্দী থাকার জন্য জন্মগ্রহণ করেনি। কারও ভয়ে পালিয়ে থাকার জন্য জন্মগ্রহণ করেনি। আমরা তাদের সে সুযোগ দিতে চাই। তারা নিজের মতো করে গড়ে উঠবে। দেশকে গড়ে তুলবে। পৃথিবীতে গড়ে তুলবে।
আমরা এমন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, পৃথিবী আমাদের অনুসরণ করবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আমরা বৈষম্য-দুর্নীতিমুক্ত একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার যে অগ্রযাত্রা শুরু করেছি তার সফল বাস্তবায়ন করতে হলে ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সব অশুভ, অন্যায়, অন্ধকারকে পরাজিত করে ঐক্য ও সম্প্রীতির জয় হবে। কল্যাণ ও সম্প্রীতির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, যোগ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
সারা জাতিকে একটি পরিবার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পরিবারের মধ্যে নানা রকম মতভেদ থাকবে, ব্যবহারের পার্থক্য থাকবে কিন্তু পরিবার একটি অটুট জিনিস। এটাকে কেউ ভাঙতে পারে না। আমাদের লক্ষ্য হলো আমরা যেন জাতি হিসেবে, অটুট একটি পরিবার হিসেবে দাঁড়াতে পারি। যত ধর্মীয় পার্থক্য থাকুক, মতের পার্থক্য থাকুক, যত রকমের পার্থক্যই থাকুক, রাষ্ট্র আমাদের প্রতি কোনো পার্থক্য করতে পারবে না। সে যে-ই হোক, সমান মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র দায়িত্ববদ্ধ। সে যে ধর্মেই বিশ্বাস করুক, যে মতবাদেই বিশ্বাস করুক, অসীম ধনের অধিকারী হোক অথবা নিঃস্ব হোক, রাষ্ট্রের কাছে সে একজন নাগরিক। নাগরিকের সব অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা আছে। তাকে ক্ষুদ্র পরিমাণেও বঞ্চিত করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। নাগরিক হিসেবে আমার প্রতি কোনো বৈষম্য করা যাবে না- এ বিষয়ে সব সময় সোচ্চার হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা মাঝে-মাঝে পারিবারিক বা অন্যান্য বিষয়ে সোচ্চার হয়ে যাই, হতে হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে যেন তারচেয়ে বেশি সোচ্চার হই। আমার প্রতি কোনো রকমের বৈষম্য করা যাবে না। কারণ রাষ্ট্র আমাকে একেবারে তালিকা করে আমার প্রাপ্য কী সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছে। কাজেই যত কথা বলি সবচাইতে বড় কথাটি বলবেন- আমি নাগরিক, আমাকে এ তালিকাভুক্ত সব জিনিসের অধিকার দিতে হবে। এটাতে যদি না দাঁড়ান, বাকিগুলোতে সুবিধা হয় না। নানা কথার মারপ্যাঁচে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এটাতে এদিক-ওদিক করার কোনো সুযোগ নেই।
অধ্যাপক ইউনূস যোগ করেন, আপনারা যত কথাই বলুন, তার মধ্যে বারবার বলুন যে আমি এ দেশের নাগরিক। আমার জন্য সংবিধানে দেওয়া সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এসব অধিকার থেকে এখন আমি বঞ্চিত, এগুলো আমাকে দিতে হবে। তখন আপনি সঙ্গী-সাথী সবাইকে পাবেন। সারা দেশের মানুষ একসঙ্গে থাকবে, কারণ সবারই একই সমস্যা, তার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা বারবার লাঞ্ছিত হই, অপমানিত হই, নানা রকমের বৈষম্যের শিকার হই। যেহেতু ওই অধিকারের প্রতি আমাদের নজর নেই বা হতাশ হয়ে গেছি। অধিকারের কথা মুখে আসে না, এখন আসতে হবে। আমরা যেই নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি, তার মধ্যে এটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবাইকে সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, সেটা যেন আমরা করতে পারি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনীর মধ্যে আমাদের ধর্ম পালন করতে চাই না। আমরা নাগরিক হিসেবে মুক্তভাবে যার যার ধর্ম পালন করতে চাই। এ অধিকার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের ভূমিকা পালন করার জন্য সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমরা এমন একটি দেশ বানাতে চাই যেখানে এ রকম নিরাপত্তা বাহিনী বেষ্টিত হয়ে ধর্ম পালন করা একটি হাস্যকর জিনিস হবে। এটা কী কথা হলো! এটা কোন ধরনের দেশ বানালাম আমরা! এ রকম দেশ বানানোর জন্যই এত রক্তপাত, এত কিছু হলো? আমরা সেটা চাই না। আমরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে, সম্পূর্ণ বিশ্বাসের মধ্যে যার যার মতো, যার যার ধর্ম পালন করতে চাই, এ নিশ্চয়তা আমরা চাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category