সবুজবাংলা২৪ডটকম, ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সহকারী ডাক্তার পরিচয়ে চলছে রমরমা ক্লিনিক ব্যবসা। মূলত গর্ভবতী মায়েদের নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে অযথা সিজার করানোই এসব ভুয়া ডাক্তারদের প্রধান কাজ। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার অভিযোগ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে এলে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
উপজেলার দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে মুন্নি আক্তারকে চেকআপের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সিনিয়র নার্স শিবানী তাকে হাসপাতালেই চেকআপ না করে পাশের মাতৃসেবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে সহকারী ডাক্তার পরিচয়ে ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রোগীকে নানা ভয় দেখান। তিনি জানান, রোগীকে এখনই সিজার করতে হবে, নইলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রোগীর পরিবারের সদস্যরা এসময় সংশয়ে পড়ে যান। তবে রোগীর ভাই লিমন জানান, অন্যান্য ডাক্তাররা বলেছেন ডেলিভারির এখনও সময় আছে। পরে তিনি বোনকে নিয়ে দ্রুত পিরোজপুর কেয়ার ফাস্ট ক্লিনিকে ডাক্তার আব্দুল মতিনের কাছে যান। উল্লেখ্য, ডাক্তার মতিনই নিয়মিত মাতৃসেবা ক্লিনিকে এসে সিজার করান। তবে সেখানে অপারেশন না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রোগী দেখতে অস্বীকার করেন।
নিরুপায় হয়ে রোগীর পরিবার ওই রাতেই পিরোজপুর মুসলিম এইড হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে চিকিৎসকরা জানান, মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং প্রসবের জন্য আরও প্রায় এক মাস সময় বাকি। পরদিন ২২ আগস্ট শুক্রবার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফারজানা রহমানও একই কথা জানান।
রোগীর ভাই লিমন বলেন, “ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশেই ভুয়া ডাক্তার দিয়ে ক্লিনিক চালিয়ে অযথা সিজারের ব্যবসা হচ্ছে। আমরা সচেতন ছিলাম বলে বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাতৃসেবা ক্লিনিকের মালিক রাজিব রায় নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন এবং রোগী ভর্তি করান। এরপর ডাক্তার আব্দুল মতিনকে ডেকে এনে সিজার করান। এ ক্লিনিকে কোনো এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। অভিযোগ আছে, অতীতে এই ক্লিনিকে অপারেশনের পর রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রভাবশালী নেতাদের তদবিরে ধামাচাপা দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কিছু নার্স ও স্টাফও দালালি করেন। তারা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে ক্লিনিকে নেন এবং প্রতিটি সিজারের বিপরীতে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পান।
ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল বলেন, “আমার কোনো স্টাফ যদি দালালি করে তবে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ক্লিনিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব সিভিল সার্জনের। প্রয়োজন হলে আমি তাঁকে অবহিত করব।”
অন্যদিকে, ডাক্তার আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত রাজিব রায় বলেন, “আমি শুধু চেকআপ করেছি। পরে রোগীর স্বজনরা তাকে পিরোজপুরে নিয়ে গেছেন। আমি রোগীকে অপারেশন করার জন্য বলিনি।”
পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা চাই ক্লিনিকগুলো নিয়ম মেনে তাদের কার্যক্রম চালাক। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, প্রয়োজনে সেইসব ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।”