সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিজ বসতঘরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো.সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাজেরগো বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। চারদিন পর তার সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। তার অকালমৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাইফুল একই বাড়ির আলী আকবরের ছেলে। চরহাজারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ৫-৬ বছর আগে সৌদি আরবে যান তিনি। ২-৩ মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। আগামী ২৫ আগস্ট তার পুনরায় সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নিজের ঘরে বৈদ্যুতিক তার মেরামতের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলে মারা যান সাইফুল। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নোয়াখালীতে সাড়ে ১১ হাজারে বিক্রি হলো এক জোড়া ইলিশ
একেএম শাহজাহান ঃ নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলের জালে ধরা পড়া দুই ইলিশ সাড়ে ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে প্রায় ৫ কেজি ওজনের মাছ দুটি চেয়ারম্যান ঘাট মৎস্য আড়তে বিক্রি করা হয়। জানা গেছে, লক্ষ¥ীপুরের রামগতির জেলে মো. বাহার উদ্দিন মেঘনা নদীতে ভোরে জাল ফেলেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেই জাল তুলে আনেন। এসময় বেশ কিছু ছোট ও মাঝারি ইলিশের সঙ্গে বড় আকারের দুটি ইলিশ ধরা পড়ে। পরে মাছ দুটির ভালো দাম পেতে চেয়ারম্যান ঘাটের মাছ বাজারে নিয়ে যান জেলে মো. বাহার উদ্দিন। সেখানে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী কয়দর আলী ভাণ্ডারী সাড়ে ১১ হাজার টাকায় মাছ দুটি কিনে নেন। জেলে মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ‘সাগরে পোয়া মাছ পাইছি, ইলিশ পাইছি। এর মধ্যে দুইটা বড় রানি ইলিশ পাইছি, যা ভালো দামে বিক্রি করছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুব খুশি।’ মৎস্য ব্যবসায়ী কয়দর আলী ভাণ্ডারী বলেন, ‘৫ কেজি ওজনের দুটি মাছ সাড়ে ১১ হাজার টাকায় কিনেছি। ঢাকায় পার্টি আছে, তাদের কাছে পাঠাবো। এই মৌসুমে এত বড় ইলিশ ধরা পড়েনাই। মাছ দুটি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’ মো. আকবর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটের এক মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা নৌকা নিয়ে পাড়ে অপেক্ষা করছেন। বর্তমানে মাছের আকাল রয়েছে। যার ফলে জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদার, শ্রমিক সবাই ঋণে জর্জরিত। কেউ মাছ পাচ্ছেন আবার কেউ কেউ পাচ্ছেন না। তবে মাছ পেলে সবার মুখে হাসি ফুটতো। হাতিয়া উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান বলেন, প্রায়ই বড় বড় মাছ পাওয়া যায় এবং দামও ভালো পাওয়া যায়। মৎস্য সংরক্ষণে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সময়ের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করায় নদীতে বড় আকৃতির মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি সামনে জেলেরা সাগরে বড় আকৃতির মাছ আরও বেশি বেশি পাবেন। যা জেলেদের মুখে হাসি ফোটাবে এবং বাজারেও সাড়া ফেলবে।