সবুজবাংলা২৪ডটকম, মাধবদী (নরসিংদী) : ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরইমধ্যে মাধবদীতে জমজমাট হয়ে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতে সরগরম মাধবদী ও এর আশপাশের বিভিন্ন পশুর হাটগুলো। ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিড় জমাচ্ছেন দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। এবারো বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। তবে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা জানান, পশুর হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরু কেউ কিনতে চাইছেন না। বড় আকারের গরুর ক্রেতা কম থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিক্রেতেরা। এছাড়াও হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ বেশি হওয়ায় খরচের তুলনায় তেমন দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে শঙ্কায় খামারিরা ও প্রান্তিক চাষিরা। ক্রেতারা জানান, ঈদের এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি আছে। এখন গরু কিনলে বাড়িতে রেখে লালন-পালন কষ্টসাধ্য। ঈদের দু-একদিন আগে গরু কিনলে বাড়িতে রাখা সহজ হবে। তাই শেষ দিকে গরু কেনার অপেক্ষায় আছেন তারা। তবে গতবারের চেয়ে গরুর দাম বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের।
একটি সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ বছর জেলায় ছোট-বড় বহু খামারে দেশীয়, অস্ট্রেলিয়ান, ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গবাদিপশু লালনপালন করা হয়েছে। এসব গরু বেচাকেনার জন্য জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী এলাকা এলাকায় বহু হাট বসানো হয়েছে। এছাড়াও উদ্বৃত্ত পশু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করবেন।
জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট শিবপুরের পুটিয়া হাটে ও মাধবদীর সবচেয়ে বড় হাট সোমবার মাধবদী গরুরহাট ঘুরে দেখা যায়, রোববার রাত থেকেই এসব হাটে বিভিন্ন জাতের ও আকারের গরু নিয়ে আসতে শুরু করেন খামারিরা, প্রান্তিক চাষি ও ব্যাপারীরা। দুপুর ২টার পর থেকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় হাটগুলো। এরপর ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতে সরগরম হয়ে উঠে। হাটগুলোতে ক্রেতারা আসছে, দেখছেন, ঘুরছেন দরদাম করে কিনছেন পছন্দের পশু। তবে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশীয় গরুর চাহিদায় বেশি। ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। এসব হাটে ক্রেতাদের পাশাপাশি ভিড় জমাচ্ছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বড় ব্যবসায়ীরা। তবে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে।
মাধবদীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট মাধবদী গরুরহাট। এই হাটে কিশোরগঞ্জ থেকে আসা খামারি মোয়াজ্জেম বলেন, হাটে প্রচুর দেশি গরু উঠেছে। গো-খাদ্য, খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু লালন-পালনে এবছর গরু প্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম বলছে না। বড় গরুর দাম আরও কম দিতে চাচ্ছেন ক্রেতারা। তার ওপর ফেরত নিয়ে গেলে আবার খরচ আছে। তাই কিছুটা লস হলেও বিক্রি করে চলে যাব।
আরেক গরু বিক্রেতা ইসমাইল মিয়া বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রি করবো বলে ৪টি গরু বাড়িতে লালন-পালন করে বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। এরমধ্যে মাঝারি সাইজ দুটি ও বড় সাইজ দুটি। কিন্তু দামে হচ্ছে না, এই জন্য বিক্রি করতে পারছি না। বাজারে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরু কেউ ওইভাবে দামই বলছে না। বড় গরু পালনে খরচ বেড়েছ। খরচ বাড়লেও গরুর দাম আগের মতোই।
আরেক বিক্রতা নাসির উদ্দিন বলেন, ২টি গরু নিয়ে আসছিলাম। একটার দাম ১ লাখ ৪০ হাজার চেয়েছিলাম। কিন্তু ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি দাম বলছে না। এখন বাড়িতে ফেরত নিয়ে গেলে আবার খরচ বাড়বে। তাই বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিলাম।
আরেকটা গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম হেঁকেছি, ক্রেতারা বিভিন্ন দাম বলছেন। দামে মিললে দিয়ে দেব। তবে গো-খাদ্যের বেশি থাকায় আগের গরু বিক্রি করে ততোটা লাভ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বিক্রেতার দাবির সঙ্গে একমত নন ক্রেতারা। এই হাটে গরু কিনতে আসা মোতালিব মিয়া বলেন, হাটে প্রচুর পরিমাণে দেশি গরু উঠছে। গরুগুলো দেখতেও খুব সুন্দর। তবে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।
মাওঃ আনিসুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, আমরা যারা কোরবানি দেই, আমাদের অনেকের গরু রাখার জায়গা থাকে না। তাই ঈদের দু-তিন দিন আগেই কোরবানির পশু কিনে থাকি। আজ শুধু ঘুরে ঘুরে দরদাম করছি।
মাধবদী গরুরহাটের ইজারাদার আবু সালেহ চৌধুরী বলেন, প্রতি বছরই অতিরিক্ত হাসলি আদায়ের কারণে মাধবদীর গরুবাজারের বেচা বিক্রি কমে যায়। এবছর এই হাটে নাম মাত্র হাসলি নেয়া হবে। আমি আশা করি বিগত সময়ের তুলনায় এ বছর মাধবদীতে প্রচুর গরু-ছাগল, খাশি বিক্রি হবে।
মাধবদী প্রাইম হাসপাতালের ডা. রায়হান আমির বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালনে আগে থেকেই খামারিদের মাঝে প্রচারণা চালানো হয়েছিলো। চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পশু থাকায় কোনো সঙ্কট হবে না বলে আমার মনে হচ্ছে। হাটগুলোর বিভিন্ন স্থানে মেডিক্যাল টিম বসানো হয়েছে। আশা করি এবছর খামারিরা লাভের মুখ দেখবেন।