• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালীতে অপহরণে বাধা দেয়ায় যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি :
Update : মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানীতে এক যুবদল কর্মীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এক তরুণকে অপহরণে বাধা দেয়ায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা নিরপরাধ যুবদল কর্মী শাকিলকে (২৮) গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় শাকিলের ছোট ভাই শুভকেও কুপিয়ে জখম করে তারা। একপর‌্যায়ে স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের তিন অস্ত্রধারীকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাবর বাজারের ইসলামীয়া মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাকিল গঙ্গাবর গ্রামের মো. সোলাইমান খোকনের ছেলে। তিনি পেশায় থাই মিস্ত্রি। বিদেশে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন শাকিল। স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৮টায় শাকিলসহ কয়েকজন ছয়ানীর গঙ্গাবর বাজারের ইসলামীয়া মার্কেটে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় অটোরিকশায় কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচজন অস্ত্রধারী এসে লাবিব নামে এক তরুণকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় শাকিলসহ কয়েকজন বাধা দেয়। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শাকিলকে গুলি করে। একই সময় শাকিলের ছোট ভাই শুভ (২৫) বাধা দিলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা দুই ভাইকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে স্থানীয়রা অস্ত্রধারী তিন সন্ত্রাসীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও রাজিব আহমেদ চৌধুরী রাত ১০টার দিকে জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে গুলি ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কিশোর সন্ত্রাসীরা শাকিলকে হত্যা করেছে। তার ভাইকেও কুপিয়ে জখম করেছে। এলাকাবাসী অস্ত্রধারী তিনজনকে গণধোলাই দিয়ে আটক করেছে। আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীতে তফসিলদারের পুত্র নেন ঘুষের টাকা!
নোয়াখালী প্রতিনিধি ঃ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেই, তবুও প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর‌্যন্ত উপজেলার বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বসে অফিস করেন। ভূমি অফিসের অনলাইনের কাজ কম্পিউটারে করেন। ঘুষ ছাড়া ফাইল একচুলও নড়তে দেন না তহসিলদারের পুত্র। উপজেলার বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহসিলদার জহিরুল ইসলাম ও তার ছেলে তাসলিমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, তহসিলদার জহিরুল ইসলাম দীর্ঘ ৪ বছর পূর্বে এই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন। সেখানেই যোগদান করে তার ছেলে তাসলিমকে দিয়ে অফিসের টেবিল চেয়ারে বসিয়ে কাজ করাতেন। খাজনা পরিশোধ, নামজারি, বন্দোবস্ত নথিসহ ভূমি সংশ্লিষ্ট কাজে কোন জমির মালিক ভূমি অফিসে গেলেই তিনি তার ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তার ছেলে তসলিম জমির মালিকদের সাথে ঘুষের টাকা লেনদেন করেই তার পিতাকে গ্রিন সিগনাল দিলেই তিনি প্রতিবেদন দাখিল করতেন। এ সংক্রান্ত অনিয়ম বিষয়ে স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করেন। বিগত সময়ে তহশিলদার জহিরুল ইসলামকে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে এই ভূমি কর্মকর্তাকে এপ্রিল মাসের প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করেন। এখানে বদলি হয়ে আসার পর ভূমি অফিসের দালালদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। তহশিলদার ও তার পুত্রের ঘুষ বাণিজ্যের মাত্রা বেড়ে যায়। উপজেলার পূর্ব চাঁদপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর পুত্র মাস্টার অলি আহমেদ অভিযোগ করে জানান, ২৮ এপ্রিল সকাল ১১ টায় তিনি নাটেশ্বর মৌজার ৪৪ শতাংশের মধ্যে ৪ শতাংশ সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করতে বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। তহশিলদার জহিরুল ইসলাম তার ছেলে তাসলিমের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সে প্রথমে ৪ শতাংশ সম্পত্তির খাজনা নিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। ৪৪ শতাংশ সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করতে বলেন। পরে সে ৪ শতাংশ সম্পত্তির খাজনা নিতে মোট অংকের ঘুষ দাবি করেন। ২৮ এপ্রিল সকাল ১১ টার দিকে বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তফুরা নামে একজনের মালিক অভিযোগ করে জানান, তিনি ১১ শতাংশ সম্পত্তি নামজারি করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসেছেন। তহশিলদার জহিরুল ইসলাম নামজারি করতে ১৫ হাজার টাকা চুক্তি করেন। পরে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে আসবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনাপুর ইউনিয়নের কয়েকজন জমির মালিক অভিযোগ করে জানান, বিগত ৪ বছর এই ভূমি অফিসে তহসিলদার জহিরুল ইসলাম ও তার ছেলে বিভিন্ন অনিয়ম করেছে। তাদের ম্যানেজ করেই সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে ভূমিদস্যরা। তহশিলদার তার ছেলের মাধ্যমেই ঘুষের টাকা নিয়ে থাকেন। বজরা ইউনিয়ন তহশিলদার জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক ভূমি অফিসে বহিরাগত লোকজন দিয়ে কম্পিউটার কাজ করে থাকেন।ইউএনও এসিল্যান্ড বিষয়টি জানেন। তিনি তাঁর পুত্রকে দিয়ে করাচ্ছেন। তবে তিনি তার মাধ্যমে কোন ঘুষের টাকা লেনদেন করছেন না। সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাতের বক্তব্য নিতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল দিলেও পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category