• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ: এসপির প্রত্যাহার চায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি :
Update : বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫

সবুজবাংলা২৪ডটকম, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে অটোরিকশা আটকের নাটক সাজিয়ে উদুর পিন্ডি বুদুর ঘাড়ে চাপিয়ে দম্পতিকে হয়রানির ভূয়া অভিযোগে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। ঘটনাটি কোনো প্রকার তদন্ত না করে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)কে প্রত্যাহার দাবি করেছেন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে কুড়িগ্রাম ছাত্র সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম দফতর সচির ও দফতর সেলের সম্পাদক লোকমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ ও এসপির প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এসপির ‘ফ্যাসিস্ট আচরণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রনেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেৃতত্বদানকারী রাজিবপুর উপজেলার ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ চার জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। মেহেদী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ে, মেয়ের জামাইসহ কয়েকজনকে অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয় মামলায়। পরে ছাত্রপ্রতিনিধি মেহেদীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় রাজিবপুর থানা পুলিশ।
রাজিবপুরের বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সংগঠক রবিউল ইসলাম রবিন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ঈদের রাতে অটোরিকশায় কয়েকজন যুবক ও দুজন মেয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টিতে সন্দেহজনক হওয়ায় অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদী। শুধুমাত্র মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এমনটা করেছেন তিনি। সেখানে বিবাহিত দম্পতি থাকার বিষয়টি জানা ছিল না। কিন্তু এ ঘটনায় ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে অটোরিকশায় থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলমের ছেলে শিহাবের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিষয়টিকে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মামলা ও গ্রেফতারের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন কুড়িগ্রামেট এসপি ও জেলা শিক্ষা অফিসার বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঐ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র প্রতিনিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের পেছনে এসপি মাহফুজুর রহমানের ফ্যাসিস্ট আচরণ দায়ী।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, মিথ্য অভিযোগে মামলা দায়ের করে ছাত্র প্রতিনিধির চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। মাত্র ২৮ মিনিটের ব্যবধানে মামলা নথিভুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করে দ্রুততার সঙ্গে চালান দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ন্যূনতম তদন্ত করেনি পুলিশ। মূলত পুলিশ সুপারের অতি আগ্রহে পুলিশ তড়িৎকর্মা হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন জেলা সংগঠনের নেতারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিপ্লবের পক্ষের শক্তিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসপি কোন অপশক্তির ইশারায় এমন ফ্যাসিস্ট আচরণ করছেন, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
এসপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কোনও ধরনের তদন্ত ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র জান্নাতুল তহুরা তন্নীর ওপর হামলা করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টো এসপি মাহফুজুর রহমান হামলাকারীদের সঙ্গে আপসের পরামর্শ দেন।’
পুলিশের আচরণকে ফ্যাসিস্ট উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় পুিলশ প্রশাসন আমাদের বিরুেদ্ধ যে দমনমূলক আচরণ করেছিল, তা আমরা ভুলিনি। কিন্তু পুলিশ তাদের পুরোনা ফ্যাসিস্ট প্রবণতা ত্যাগ করেনি। তারা কেবলমাত্র স্বৈরাচারী হাসিনার পরিবর্তে নতুন মদতদাতার ছায়ায় পুরোনো দমননীতি বজায় রেখেছে।’
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি হঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, বিপ্লবের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষার লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং প্রশাসনের ফ্যাসিস্ট আচরণের বিরুেদ্ধ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক রাজ্য জ্যোতি বলেন, ‘এসপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গোপনে দ্রুততার সঙ্গে মামলা নথিভুক্ত করে ছাত্র প্রতিনিধিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এটা এক ধরনের প্রতারণা। সাধারণ মানুষ মামলা করতে গেলে পুলিশের কাছে হয়রানির শিকার হন। অথচ শিক্ষা অফিসারের পরিবারের সদস্য হওয়ায় সত্যতা যাচাই বাছাই ছাড়াই তড়িৎ গতিতে পুলিশ তৎপর হয়ে গেলো। এটা জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।’
সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের ফোরামে আলোচনা করে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সামান্য ঘটনায় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা ও গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এজন্য এসপিকে দায়ী করছি। তিনি জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টের আচরণ অব্যাহত রেখেছেন। অনতিবিলম্বে তার প্রত্যাহার দাবি করছি।’
এ বিষয়ে খুদে বার্তা দিয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, আমরা বৈষম্য বিরোধীদের বিরুদ্ধে কিছু ই করিনি বরং তাদের চেতনার প্রতি একাত্মতা করি ও সম্মান রাখি। একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনায় তাদের সাথে চলাফেরা করে এমন কিছু লোক আইনকে হাতে তুলে নিয়ে রাত ১০০০ টায় দূটো মেয়েকে একটা অটো রিক্সা হতে নামিয়ে শ্লীলতাহানি করে। মেয়েদের স্বামী ও ভাই গাড়িতেই ছিল। তখন স্বামী ও ভাই প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই ঘটনার মূল হোতা কে পুলিশ গ্রেফতার করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category