সবুজবাংলা২৪ডটকম, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্যবসায়িক লেনদেনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে সাংবাদিকের নামে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের সচেতন নাগরিক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুড়িগ্রাম পৌরসভা গেট সংলগ্ন রিকন্ডিশন মোটর সাইকেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “বাইক বাজার” কতৃপক্ষ নাগরিক টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকায় একটি মটর সাইকেল ক্রয় করে। এক মাসের মাথায় ১০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে গাড়িটি আবারো ফেরত নেয় ওই সাংবাদিক। বাকী ১৫ হাজার টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের সত্ত্বে জামিনদার হয় দেশটিভি ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি জুয়েল রানা এবং সুজন মোহন্ত। পরবর্তীতে দফায় দফায় টাকা পরিশোধের সময় নিলেও তা পরিশোধ ব্যর্থ হয়।
এর এক পর্যায়ে ২৯শে মার্চ রাতে ওই মটর সাইকেল ব্যবসায়ীর বড় ভাই দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি ফোনে জামিনদার ওই দুই সাংবাদিককে মটর সাইকেল কিংবা টাকা পরিশোধ চাপ দেন। এর কিছুক্ষণ পরেও দৈনিক সমকালের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত বাইক বাজার নামক প্রতিষ্ঠানে আসলে তাকে টাকা পরিশোধের জন্য সময় বেঁধে দেন সাংবাদিক সাঈদ আহমেদ বাবু। এ সময় সমকালের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত এবং কালবেলার প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদ বাবু উভয়ই উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিষয়টি মিমাংসা করেন বাইক বাজার প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী সাংবাদিক মোঃ রাশিদুল ইসলাম।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে বের হয় দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি একাত্তর টিভি ও দৈনিক জনকন্ঠের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজসহ আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাতি করে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাঈদ আহমেদের সুনাম ক্ষুন্ন ও বিতর্কিত করতে দৈনিক সমকালে “কুড়িগ্রামে সমকাল প্রতিনিধিকে মারধর, হাসপাতালে ভর্তি” শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে।
এ বিষয়ে দৈনিক কালবেলার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘একটু সামান্য ঘটনা ফ্যাসিস্ট সাংবাদিকরা তাদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সমকালের প্রতিনিধিকে দিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশ করায় আমি মারাত্মক ব্যাথিত। সমকালের মতো দায়িত্বশীল পত্রিকা সংবাদ বিচার বিশ্লেষণ না করে সংবাদ পরিবেশন করা অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্খিত। আমি নিন্দনীয় কাজের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাইক বাজার প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘দৈনিক সমকালে আমার বক্তব্য দিয়ে যে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি সমকালের প্রতিনিধিকে কোনপ্রকার বক্তব্য প্রদান করি নাই। তাছাড়া সেদিন বাকবিতন্ডা হয়েছে, মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।’
এ ব্যাপারে দৈনিক সমকালের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সুজন মোহন্তের বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দিলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল্লাহ্ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি আমি অবগত নই।’