• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দাকোপে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি :
Update : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

সবুজবাংলা২৪ডটকম, দাকোপ : প্রতিবেশী সংরক্ষিত ওয়াডের ইউপি সদস্য শিউলি পারভীন গত ২/১১/২৪ ইং তারিখের সাংবাদিক সম্মেলএর বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বসতবাড়ি সামনে রাস্তার কাজের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক বরাদ্দের টাকা কাজ না করে আত্মসাৎ করা। এছাড়া
অব্যহত হুমকি ও শাররীক নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরে দাকোপ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেনমোঃফারুক আহমেদ মোল্ল্যা।
মঙ্গলবার বেলা ৩ টায় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায়
দাকোপের পানখালী ইউপির সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং খোনা গ্রামের জাহিদুর মোল্যার স্ত্রী শিউলী পারভীন এর বিরুদ্ধে বলেন, আমাদের প্রতিবেশী
বিগত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সাথে পরিকল্পিতভাবে শত্রুতা করে আসছে। কিন্তু
শিউলি পারভীন সেই থেকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমাদরকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ সহ শাররীকভাবে লাঞ্চিত করে আসছে।তাহার বেপরোয়া আচারনে ভীত হয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি। বর্তমানে প্রতিনিয়ত আমাদের স্ব পরিবারে হামলা মামলা ও ক্ষয়ক্ষতির হুমকি অব্যহত রেখেছে। সে সংরক্ষিত সদস্য হিসাবে ক্ষমতার বলে মিথ্যা অভিযোগে খোনা গ্রামের মুন্না, লিটন, মুকুল এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী বলে ভিত্তিহীন বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করছে।
তার এহনো অব্যহত হামলা নির্যাতন ও হুমকির ভয়ে আমরা দাকোপ থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করি যার নং ১৬৭ তাং ৪/১১/২৪। এ ছাড়া সেনা ক্যাম্পে ও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিউলি পারভীন
নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন রাস্তার কাজ অধিকাংশ করেছি। আর মটির অভাবে বাঁকী কাজ করতে পারেনি শুকনা মৌসুমে কাজ করে দেবো। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন , প্রতিবেশী আব্দুস ছালাম,মোল্ল্য এনামুল করির,আমিরুল ইসলাম মোল্লা, লিটন মোল্লা সহ আরো অনেকে উপস্থিত থেকে অভিযোগের পক্ষে সহমত পোষন করেন।

পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ
অসহনীয় ভ্যাপসা গরম আর সেই সাথে একের পর এক পল্লী বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে খুলনার দাকোপের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দিনে ও রাতে ৮ থেকে ১০ বার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকায় মিল কলকারখানা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত গুলোতে সেবা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদুতের লুকোচুরি খেলায় বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে।
এলাকার স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানান,পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের লুকোচুরিতে সম্পূর্ণ ভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। আকাশে একটু মেঘ জমলেই বিদ্যুত চলে যায়। আর একটু ঝড়ো হাওয়া হলে তো কথা নেই, তখন দুই/তিন দিনেও এলাকায় বিদ্যুৎ আসে না। বিদ্যুত পাওয়ার বিষয়ে তখন কোন গ্রাহক বিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় নানান অজুহাত। দীর্ঘ বছর ধরে বিদ্যুতের এ বিভ্রাটের কারণে এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল, কলকারখানা আজ বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দিনে ও রাতে সমান তালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। সন্ধার পর বিদ্যুত না থাকায় তখন রাস্তা ঘাট ভুঁতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়, তখন রাস্তা ঘাট দিয়ে চলাফেরা করাও দায় হয়ে পড়ে। প্রতিদিন দিনে ও রাতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিস সুত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় ১১টি ফিডারের মাধ্যমে দাকোপ উপজেলার চালনা পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে ৪৩ হাজার এবং পার্শ্ববর্তী বটিয়াঘাটা উপজেলার কিছু অংশের ৫ হাজার মোট ৪৮ হাজার গ্রাহককে এ সাব ষ্টেশন থেকে ৯ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা রয়েছে। এর মধ্যে পিক আওয়ার সন্ধা কালিন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাহিদা রয়েছে ৯ মেঘা ওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি সেখানে ৬ মেঘা ওয়াট এবং অফ পিক আওয়ারে চাহিদা রয়েছে ৬ মেঘা ওয়াট,পাচ্ছি ৪ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদা অনুযায়ী ৫ মেঘা ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ সন্তোষ কুমার মজুমদার বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বড় ধরণের কোন অপারেশন করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সিজারিয়ান রোগীরা এ কারণে বেশী অসহায় হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটিতে সিজারিয়ান কাজ চলাকালিন সময়ে বিদ্যুত চলে গেলে তখন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সে রোগীর সিজারিয়ান কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে তখন রোগী ও রোগীর পরিবারকে দুশ্চিন্তিায় পড়তে হয়। বাজুয়া খুটাখালি বাজারের রাইস মিল চালক গৌতম দে বলেন, বিদ্যুতের উপর নির্ভর করেই আমাকে ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কারণে মিলে ধান মাড়াই করে চাউল তৈরী করতে পারছি না। বিদ্যুত চলে যায় ঘন্টা পর ঘন্টা। তখন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলে তারা নানা অজুহাত বলতে থাকে। তাই মাঝে মিল এখন বন্ধ রাখি এবং বিকল্প ব্যবসা করার চিন্তা করছি। চালনা পৌরসভার পোল্ট্রি মুরগী ব্যবসায়ী পলাশ রায় জানান, ঘন ঘন পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারনে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগীর বাচ্চার দাম বৃদ্ধিসহ মুরগীর খাবারের মুল্যে বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে । তার পর লোডশেডিংয়ের কারণে আমার তিনটি ফার্মে সাড়ে ৫ হাজার মুরগীর বাচ্চার পরিচর্যা সঠিক ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ওই ফার্ম গুলিতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ করে মুরগীর বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এতো লোকসান করে আর পারা যাচ্ছে না, তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীতে আর এ ব্যবসা পরিচালনা করবো না।
খলিসা গ্রামের অটো ভ্যান চালক খোকন রায় জানান, আমার ৫ সদস্যর পরিবার আমার উপর নির্ভর। ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ পাওয়া যায় তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্যানের ব্যাটারীতে প্রয়োজনীয় চার্জ দিতে না পারায় তখন কিছু সময় চলার পর ব্যাটারীতে আর চার্জ খাকে না। তখন এমনিতেই ভ্যান চলা বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন আর আয় করতে পারি না।
চালনা পৌরসভার লন্ড্রী ব্যবসায়ী ছোট্র বৈরাগী বলেন, আমাকে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে ৬ সদস্যর পরিবারকে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা আর আগেরমত নেই। বিদ্যুৎ থাকলে ব্যবসা হয় আর না থাকলে ওই দিন আর ব্যবসা হয় না। তখন মনে হয় এ ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প কোন ব্যবসা করি। উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) অফিসে জমির মিউটেশন করতে আসা গুনারী গ্রামের আব্দুল মজিদ মীর জানান, গত দুইদিন ধরে অফিসে ঘোরা ঘুরি করছি জমির নাম জারি কেস বা মিউটেশন করতে। কিন্তু বিদ্যুতের বিভ্রাটের কারণে অফিস তা করতে পারছেন না। চালনা বাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন রাতে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমত লেখা পড়া করতে পারছি না। এ কারণে হয়তো আমাদের আসানুরুপ রেজাল্টও হবে না। সরকারের কাছে দাবী বিদ্যুৎ বিভাগ জেন এ পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ উজ্জল কুমার দত্ত জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কারণে মানুষকে সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছি না। কারণ এখন অনলাইনের মাধ্যমে জিডি ও মামলা এন্ট্রি করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ কর্ম গুলির রিপোর্ট যথা সমায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো সম্ভব হয়ে উঠে না। এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাকোপ সাব জোনাল অফিসের সহ-জোনাল ম্যানেজার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন ৩ ঘন্টা পর পর ১ ঘন্টা করে মোট ৮ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।নন’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category