সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে সোনাদিয়া ইউনিয়নের চৌরাস্তা বাজার বণিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্থানীয় পশ্চিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা মাহমুদুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হয়। বণিক সমিতির এ নির্বাচনে সভাপতি পদে হরিণ প্রতীক নিয়ে মাহমুদ আব্বাস ও চেয়ার প্রতীক নিয়ে মাকছুদুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এবং সেক্রেটারি পদে জামসেদ উদ্দিন কলম প্রতীক, জসীম উদ্দিন ছাতা প্রতীক ও মাকছুদুর রহমান আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এ নির্বাচনে হরিণ প্রতীকে ১৩০টি ভোট পেয়ে মাহমুদ আব্বাস সভাপতি ও কলম প্রতীকে ৫২টি ভোট পেয়ে জামসেদ উদ্দিন সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। এছাড়া টেলিফোন প্রতীকে ৮৫ টি ভোট পেয়ে মো. আমজাদ হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক , মেসওয়াক প্রতীকে ৮০ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ আলী দফতর সম্পাদক এবং মাইক প্রতীকে ৮১ ভোট পেয়ে মো. আরিফ উদ্দিন প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আলনারী প্রতীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। সদস্য পদে মো. সোহেল উদ্দিন মোটর সাইকেল প্রতীকে ৬৬ ভোট, মনির উদ্দিন আপেল প্রতীকে ৩৭ ভোট এবং নাসির উদ্দিন মোরগ প্রতীকে ২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।হাতিয়া উপজেলায় চৌরাস্তা বাজার সৃষ্টির পর এটি বণিক সমিতির প্রথম নির্বাচন। ভোটারগন লাইন ধরে তাদের প্রত্যাশিত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাও. সাজ্জাদুল বারী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর হাতিয়ায় এ প্রথম কোন ভোট সরাসরি ভোটারদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য পুলিশ, নির্বাচন কমিশনার, ভোটগ্রহণকারী ও সাংবাদিক সহ সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনার রাজ বিহারী দাস বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু, নির্ভেজাল ও ঝামেলামুক্ত ভাবে আমাদের এ বণিক সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। যা হাতিয়া উপজেলার অন্যান্য বাজারের জন্য উদহারণ সৃষ্টি করবে। উল্লেখ্য, সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার বণিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৫১ জন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে এএসআই ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩ জন পুলিশ ও ৩ জন গ্রাম পুলিশ ছিলেন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন জাহাজমারা ছেরাজুল উলুম মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা আলাউদ্দিন।
ছোট ফেনী নদীতে নৌকা উল্টে সজিব নিখোঁজ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ক্লোজার ঘাটে নদীর পাড় থেকে গাছ উপড়ে পড়ে নৌকা ডুবে এক নরসুন্দর নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ সজিব জলদাস (২৩) উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জেলে বাড়ির জনার্দন জলদাসের ছেলে। তিনি পেশায় নুরসুন্দর ও কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। শুক্রবার (১৮ই অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মুছারপুর ইউনিয়নের মুছাপুর ক্লোজার এলাকার ছোট ফেনী নদীতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, গত কিছু দিন আগে বন্যার পানিতে মুছাপুর স্লুইসগেট রেগুলেটর তলিয়ে যায়। এরপর থেকে মুছাপুর ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদী সংলগ্ন মুছাপুর ক্লোজার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে সে তার বাবার সাথে উপজেলার ছোট ফেনী নদীর উড়িরচর এলাকায় মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাবার সাথে নৌকায় করে মুছাপুর ক্লোজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। যাত্রা পথে তারা মুছাপুর ক্লোজার ঘাট সংলগ্ন এলাকার ছোট ফেনী নদীর পাড়ের কাছাকাছি পৌঁছলে নদীর পাড়ে থাকা দুটি ঝাউ গাছ উপড়ে তাদের নৌকার ওপর পড়ে। এতে নৌকা ডুবে সজিব ছোট ফেনী নদীতে নিখাঁজ হয়ে যায়। পরে তার বাবা পাড়ে উঠে এসে বিষয়টি সবাইকে জানায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে এখনো পাওয়া পায়নি।