• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নোয়াখালীতে ট্রাক শ্রমিকের মৃত্যু, সাবেক সাংসদ একরামুলসহ ৫৩ জনের নামে মামলা

এ কে এম শাহজাহান :
Update : সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

সবুজবাংলা২৪ডটকম, নোয়াখালী : নোয়াখালীতে ট্রাক শ্রমিক মো. খোকন (১৭) হত্যার অভিযোগে নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের ৫৩ জন নেতাকর্মীর নামে থানায় মামলা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহত শ্রমিকের বাবা মজিবুল হক বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় এই মামলা করেন। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন, সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন জেহানকেও আসামি করা হয়।মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত খোকন পেশায় একজন ট্রাক শ্রমিক ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার জন্য সদর উপজেলার দত্তেরহাট দত্ত বাড়ির মোড়ে জমায়েত হন। খোকন তখন নিজের বাড়ি থেকে দত্তেরহাট শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এক পর্যায়ে খোকন সোনাপুর-মাইজদীর প্রধান সড়কে গেলে সাবেক এমপি একরামুল, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন জেহান, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু, নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শহীদ উল্যাহ খান সোহেল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, আওয়ামী লীগ নেতা সিএনজি কামাল, পৌর কাউন্সিলর নাসিম উদ্দিন সুনাম, আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা বিএনপি জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিল দত্তেরহাট পোলের কাছাকাছি পৌঁছলে হত্যার উদ্দেশে অতর্কিত হামলা করে। তখন ১ থেকে ২০ নম্বর আসামিরা তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকলে খোকন গুলিবিদ্ধ হয়। মামলায় আরও বলা হয়েছে, খবর পেয়ে নিহত শ্রমিকের বাবা ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাকে মারধর করে তার ছেলেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তাকে মৃত ভেবে গুম করার জন্য ময়লাযুক্ত খালে মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সুধারাম থানায় মামলা করতে গেলে আসামিদের রাজনৈতিক প্রভাবে পুলিশ নিহতের বাবার মামলা না নিয়ে পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। মামলার বাদী অভিযোগ করেন, যার কারণে তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার পাননি।সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপি নেতা হত্যার ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে কোম্পানীগঞ্জে দলের নেতার ছবি দিয়ে গায়েবি পোস্টারিং, বিএনপির বিক্ষোভ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মতিন তোতা হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নিতে রাতের আঁধারে গায়েবি পোস্টার লাগানো হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভে করেছে নেতাকর্মীরা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বসুরহাট বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে আরডি শপিং কমপ্লেক্সে চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এর আগে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আবদুল মতিন তোতা হত্যায় উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে দায়ী করে এলাকায় পোস্টারিং করা হয়। এতে দলের নেতাদের ছবির পাশাপাশি বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলামের ফাঁসি লাগানো বিকৃত ছবি ছাপানো হয়। পরে পোস্টারগুলো ছিড়ে ফেলেন বিএনপি কর্মীরা। এ বিষয়ে নিহত আবদুল মতিন তোতার ছেলে ইমাম উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘ফখরুল সাহেব ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে কে বা কারা এ ধরণের পোস্টারিং করেছে তা আমরা জানি না। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। আমরা এ ষড়যন্ত্রের বিচার চাই। বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার বলেন, বিএনপি নেতা আবদুল মতিন তোতাকে হত্যা করেছেন আওয়ামী সন্ত্রাসী রাজ্জাক চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপি অন্যতম সদস্য শিল্পপতি ফখরুল ইসলামকে দায়ী করে পোস্টারিং করেছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এসময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন, পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল-মামুন, যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজনসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ফখরুল ইসলাম ঢাকার মেট্রো হোমস লিমিটেড এবং ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন নোয়াখালী-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। প্রসঙ্গত; গত ২৭ আগস্ট রাতে চরএলাহী ইউনিয়নে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে বিএনপি নেতা আবদুল মতিন তোতাকে আহত করে। পরে গত ৩০ আগস্ট ঢাকার পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) নিহত তোতার ছেলে ইসমাইল বাদি হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৩১জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে চরএলাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, বিএনপি নেতা আবদুল মতিন তোতা হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গায়েবি পোস্টারিংয়ের বিষয়ে শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category