সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার বাজারে হতাশা দেখা দিয়েছে। নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মৌসুমি সংগ্রহকারীরা বলছেন, সরকারনির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারের বাস্তব দামের কোনো মিল নেই। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া পরিশোধে জটিলতা ও নগদ অর্থ সংকটের কারণেই বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরু ও ছাগলের চামড়া। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে বাজার সরগরম থাকলেও বিক্রেতাদের মুখে ছিল হতাশার ছাপ।
পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। তাদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়বে—এমন আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। অনেকে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করেন, আবার কেউ জোর করে আড়তে চামড়া জমা দিয়ে ফিরে যান।
সাতক্ষীরাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিপাকে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও লোকসানের আশঙ্কায় জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও চামড়া কিনতে কোনো ব্যবসায়ীই যাননি।
ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে চামড়া নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে যান। আবার অনেকে স্থানীয় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে চামড়া দান করে দিয়েছেন।