সবুজবাংলা২৪ডটকম, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় শনিবার রাতে দুইজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এটি ৭ দিনের ব্যবধানে মঠবাড়িয়ায় দ্বিতীয় জোড়া খুনের ঘটনা। নিহতরা হলেন মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদ ও মো. কালু মিয়ার ছেলে মো: সাগর। এরা দু’জনেই উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ গতকাল রোববার সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
এদিকে ওই গ্রামের মৃত আঃ ছত্তার প্যাদার ছেলে ইউসুফ প্যাদা নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা এটিকে হত্যাকান্ড বলে দাবী করলেও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়া গ্রাম নিবাসী মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদকে শনিবার রাত ১১ টার দিকে কে বা কারা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেলে ওই রাতে সে আর বাড়ী ফেরেনি। গতকাল রোববার সকালে স্থানীয়রা নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবের বারান্দায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
একই দিনে ওই গ্রামের মো. কালু মিয়ার ছেলে সাগর এর মরদেহ তার বাড়ির পিছন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সাগরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে শনিবার গভীর রাতে তাদের বাড়ীর পিছন থেকে কেউ একজন ডাক দিয়ে বলেন, “বাড়ীতে কেউ আছেন?” ঘরের দরজা খুলে স্বজনরা কাউকে দেখতে পাননি। টর্চের আলোতে বাড়ীর পিছনে সাগরের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। দুটি মরদেহই কাদামাটি মাখা ছিলো। এ ঘটনায় মৃতদের পরিবারে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জানান, ২ টি মৃতদেহ কাছাকাছি স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের গায়ে কাদামাটি মাখানো ছিল। সুরতহাল ও পোস্টমর্টেম করার পর বুঝা যাবে এটি হত্যাকান্ড না অন্য কিছু।
প্রসঙ্গত এর আগে গত ২৪ মে মঠবাড়িয়ার উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউসুফ শরীফকে ও টিকিকাটা ইউনিয়নের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে।