সবুজবাংলা২৪ডটাকম, পিরোজপুর : পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মুনিরাবাদ। ওই গ্রামের কোকরাকাঠী জামে মসজিদ ও মাদরাসার সামনে তিনটি লাশের খাটিয়া। খাটিয়া তিনটিতে শুয়ে আছে একই পরিবারের তিন সদস্য। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি গ্রামের কেউ। তিনজনই ঢাকা থেকে বাসে করে আসছিলেন গ্রামের বাড়ীতে কোরবানী করতে। আর কোরবানীর দিনই গোপালগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল ওই তিনজনসহ আরো দু’জনের।
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মুনিরাবাদ গ্রাম। মুনিরাবাদের হতভাগা তিনজন হলেন, সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) ও ছেলে আরমান (৮)। আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানান, দোলা পরিবহন নামের দূরপাল্লার একটি বাসের সাথে একটি মোটর বাইকের মুখোমুখী সংঘর্ষে তাঁর গ্রাম মুনিরাবাদের ওই ৩ জনসহ আরো ২ জন নিহত হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার কোরবানীর দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোপালগঞ্জে গিয়ে নিহতদের পরিবারের অন্য কেউ নাথাকায় তিনি লাশ তিনটি গ্রহন করে বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে গ্রামে ফেরেন।
তিনি জানান, নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীগঞ্জে স’মিল শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। কোরবানীর ছুটিতে বাড়ী ফিরছিলেন। তার দু’ছেলের অন্যজন নানা বাড়িতে থাকে। নিতান্ত সহজ-সরল ও ভালো মানুষ ছিলেন সোহাগ। একই পরিবারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি জানান, এ গ্রামের মানুষ এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি।
প্রসঙ্গত ওই দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জনের অন্য দু’জন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।