• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যুবদল ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, এলাকাছাড়া তরুণী কোরবানির পশুর চামড়ার দর নির্ধারণ তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প পাকিস্তান জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা জামায়াত আমীরের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক দেশীয় বিড়ি শিল্প রক্ষায় ৫ দফা দাবিতে বগুড়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ সিনেমার সেন্সর বাতিল কয়রায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্বি-মাসিক সভা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে শ্রমিকদের সাথে নিজের নাম লেখাতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
Update : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাকা : মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজের নাম লেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শ্রমিকদের উন্নয়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১ মে) বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরাই দেশের প্রকৃত নির্মাতা। তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা ইমারত নির্মাণ করেন, কারখানায় বা পরিবহনে কাজ করেন—আজ থেকে আপনাদের সঙ্গে আমিও একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে চাই। আমার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও শ্রমিকদের খাতায় যুক্ত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশ গড়া।’
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শ্রমিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনে শ্রমিক দলের ৭২ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে শিল্পকারখানা ধ্বংস হয়ে দেশ আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, বন্ধ কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে এবং এতে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে।
হকার উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি মানবিক সমাধানের কথা তুলে ধরে বলেন, শুধু উচ্ছেদ নয়—তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া শ্রমিক, কৃষক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতার আদলে প্রতিভা অন্বেষণের কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগেই ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, “শ্রমিক ও কৃষক বাঁচলে তবেই বাংলাদেশ বাঁচবে।”
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবাইকে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর বাণী স্মরণ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খানসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এছাড়া হাজার হাজার শ্রমিক ও নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category