• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম :
সৌদি আরবগামী ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২২ হাজার ২৩১ যাত্রী কুড়িগ্রামের উলিপুরে পরকীয়ার জেরে নারীর আত্মহত্যা, মরদেহ থানায় পলাশবাড়ীতে ৫০ বছরের পুরোনো রাস্তা বন্ধের অভিযোগ; ভোগান্তিতে ২০টি পরিবার চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা, জব্দ হবে মালামাল আনসার-মুহাজির ভ্রাতৃত্ব: মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ মুল সোপান শীর্ষক জাতীয় সীরাতুন্নবী (স) সেমিনার অনুষ্ঠিত কয়রায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি নেতা নুরুল আমিন বাবুলের মতবিনিময় শিকলে বাঁধা কুমারখালীর নাজমার জীবন, অর্থাভাবে মিলছেনা চিকিৎসা কুড়িগ্রামে পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমান মাদকসহ আটক-৩ ফের কক্সবাজারের হোটেলে আগুন, রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

শিকলে বাঁধা কুমারখালীর নাজমার জীবন, অর্থাভাবে মিলছেনা চিকিৎসা

মাহমুদ শরীফ :
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

কুমারখালী উপজেলা সংবাদদাতা : রেলের পাশে একটি ছোট্ট টিনের ঘরের খুঁটির সঙ্গে গত ১০ বছর ধরে লোহার শিকলে বন্দি হয়ে আছেন মানসিক ভারসাম্যহীন নাজমা আক্তার (৩৫)। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা শীত ঋতুতেই ঘরের মেঝেতে শুয়ে-বসে কাটছে তাঁর জীবন। পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারনে সুচিকিৎসা করাতে পারেনি বৃদ্ধ মা সাকিরন নেছা।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এলঙ্গি রেলপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য। নাজমা ওই এলাকার মৃত নাজিমুদ্দিনের মেয়ে। নাজমা বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলে না। না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে কোন খাবার চেয়ে খায় না। তিন সন্তান নিয়ে তার মানবতা জীবন যাপন করতে হচ্ছে পরিবারটিকে সরকারি জায়গায় একটি টিনের ছোট ঘরে তার সঙ্গে কাটছে। সমাজের বৃত্তবানদের সাহায্যে আবারো ফিরে পেতে পারে নাজমার জীবন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৭ বছর আগে নাজমার প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাঁর স্বামী মারা যান। এর সাত বছর পর পরিবার থেকে তাঁকে পুনরায় বিয়ে দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তিনি তীব্র মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয় তার স্বামী। নাজমার বৃদ্ধা মা সাকিরন নেছা জানান, অর্থাভাব ও চরম দারিদ্র্যের কারণে মেয়েকে কোনো ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। সাধ্যের মধ্যে কিছু কবিরাজি চিকিৎসা করানো হলেও তাতে কোনো ফল মেলেনি। শিকল মুক্ত পেলেই নাজমা উদ্দেশ্যহীনভাবে হারিয়ে যান, তাই বাধ্য হয়েই তাঁকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহানারা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। নাজমার সুচিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের একদমই নেই। বর্তমানে পরিবারটিতে উপার্জন করার মতো একজন মাত্র ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁর বয়সও ষাটোর্ধ্ব। এই বয়সে বৃদ্ধ বয়সের ভার সামলে তাঁকেই সাত সদস্যের পুরো সংসারের ভরণপোষণ চালাতে হচ্ছে।
নাজমার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category