কয়রা (খুলনা) : খুলনার কয়রায় উত্তরচক বহুমুখী কামিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযােগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়রা উপজেলার ৪ নম্বর কয়রা গ্রামের মোঃ মোশাররাফ হোসেনের ছেলে মোঃ বায়েজিদ হোসেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। সংবাদ সম্মেলনে বায়েজিদ হোসেন বলেন, সম্প্রতি আবদুল্লাহ আল মামুন কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উত্তরচক কামিল মাদ্রাসায় নিয়োগকে কেন্দ্র কেের আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি আরও বলেন, আমি উত্তরচক কামিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। এরপরও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসাটির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের টাকা-পয়সার লেনদেন করা হয়নি। সম্পুর্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে হযরানী করার জন্য এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি উক্ত মিথ্যা অপপ্রচারের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সুন্দরবনে বনদস্যু সম্রাট- ফজলু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ জেলে-বাওয়ালীরা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে বনজীবীদের ওপর বনদস্যুদের অত্যাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ফজলু বাহিনীর বিরুদ্ধে জেলে ও বাওয়ালিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এতে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জীবিকার তাগিদে বনে গেলেও নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। সুন্দরবনের নদী-খাল ও বিভিন্ন এলাকায় মাছ, কাঁকড়া, মধু ও গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো মানুষ। তাঁদের কাছে সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের আধার নয়, জীবন-জীবিকারও অন্যতম অবলম্বন। কিন্তু বনদস্যুদের ভয়ে অনেক বনজীবী স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ছাত্তার কিবরিয়া বাহিনী জেলেদেরর হয়রানী করেনা বলে জানিয়েছে অনেকেই। বনজীবীদের অভিযোগ, বনে প্রবেশের পর দস্যুদের কবলে পড়লে তাঁদের নানা ধরনের চাপ ও হয়রানির শিকার হতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার ভয়ও থাকে। ফলে ঋণ নিয়ে নৌকা, জাল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে বনে যাওয়া জেলেরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জানা গেছে, সুন্দরবনে সাম্প্রতি ২১ জন জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেন সম্রাট ও ফজলু বাহীনির দস্যুদল। তার দায়ভায় অন্য দস্যুদল সাত্তার ও কিবরিয়া বাহীনির উপর দোষারোপ করেন। মূলত সাত্তার ও কিবিয়া বাহীনি জেলে বাওয়ালীদের সাথে খারাপ আচরণ করেনি, বা কাওকে জিম্মিও করেনি। মুলত সম্রাট-ফজলু বাহিনি তাদের অপহরন করে। এই বাহিনিটি অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানায়, ছাত্তার ও কিবরিয়া বাীনির জেলেদেরকে হয়রানী করেনা। তাদের ব্যাবহর ভাল। তারা অসহায মানুষের সহযোীতা করে থাকে। তারা জেলেদের নিকট থেকে মাছ নিলেও তারা টাকা দিয় দেয়। মুলত সুন্দরনবনে নির্যাচত চালাচ্ছে সম্রাট ফজলু বাহিনী। স্থানীয় বনজীবীরা সুন্দরবনে নিয়মিত টহল জোরদার, দস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান এবং অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বনে মাছ, কাঁকড়া ও বনজ সম্পদ আহরণে নিয়োজিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে উপকূলীয় জনপদের দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।