সবুজবাংলা২৪ডটকম, ঢাতা : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইন, বিধিমালা, শ্রম মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর ও শ্রম আদালত থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, আইন আছে, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও তদারকি নেই।”
২০২৬-২০২৯ সেশনের নবগঠিত সেক্টর দায়িত্বশীলদের প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং নৌপরিবহন ঘাট শ্রমিক ও লোড আনলক সেক্টর সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম এর সঞ্চালনায় উপস্থিত রিক্শা- ভ্যান সেক্টর সভাপতি ও শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান,পরিবহন সেক্টর সভাপতি কবির আহমেদ, স্থলবন্দর সেক্টর সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, কৃষি ও মৎস্য সেক্টর সভাপতি গোলাম রব্বানী, চাতাল সেক্টর ডক্টর জিয়াউল হক, দর্জি ও তাঁত সেক্টর সভাপতি এডভোকেট আলমগীর হোসাইন, নির্মাণ সেক্টর সভাপতি নুরুল আমিন, দোকান কর্মচারী ও হকার সেক্টর সভাপতি এসএম লুৎফুর রহমান, সহ কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সম্পাদকবৃন্দ ও বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ শ্রমিক পেশাভিত্তিক বিভিন্ন খাতে কাজ করলেও তাদের সমস্যার কার্যকর সমাধান আজও হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের শ্রমিক আন্দোলনের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারদলীয় প্রভাব ও কর্তৃত্বের মধ্যে পরিচালিত হওয়ায় প্রকৃত শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরাই হয়রানির শিকার হচ্ছে। অধিকার চাইতে গিয়েও তারা রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমিক এখনো কার্যকর আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। কৃষি শ্রমিক, চাতাল শ্রমিক, বন্দর শ্রমিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের নেই কোনো নিরাপত্তা, ভাতা বা আইনি সুবিধা। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, “বাংলাদেশে অসংখ্য ট্রেড ইউনিয়ন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রকৃত শ্রমিকবান্ধব ও আদর্শিক নেতৃত্বের অভাব শ্রমিক আন্দোলনকে দুর্বল করে দিয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নিঃস্বার্থভাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং যেখানে সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে সেখানে সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠছে।
আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে দেশের কোটি কোটি শ্রমিক ন্যূনতম চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত, সে দেশে শ্রমিক কল্যাণে বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল।” তিনি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা ভাতা, সন্তানের শিক্ষা সহায়তা এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়ে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণে বরাদ্দের আহ্বান জানান।
তিনি সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “শ্রমিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যদি শ্রমিকদের পক্ষে সংসদে কথা না বলা হয়, তাহলে সেটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”
সবশেষে তিনি বলেন, “শ্রমিকের অধিকার কেউ দেয় না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আমরা শ্রমিকের বন্ধু হয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই এবং আগামীতে শ্রম সেক্টরে একটি সুন্দর ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”